Wa maa kaana qawlahum illaa an qaaloo Rabbanagh fir lanaa zunoobanaa wa israafanaa feee amirnaa wa sabbit aqdaamanaa wansurnaa `alal qawmil kaafireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা আর কিছুই বলেনি-শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और लुत्फ़ ये है कि उनका क़ौल इसके सिवा कुछ न था कि दुआएं मॉगने लगें कि ऐ हमारे पालने वाले हमारे गुनाह और अपने कामों में हमारी ज्यादतियॉ माफ़ कर और दुश्मनों के मुक़ाबले में हमको साबित क़दम रख और काफ़िरों के गिरोह पर हमको फ़तेह दे
তারা আর কিছুই বলেনি-শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
إِسْرَافَنَا – আমাদের সীমালংঘন, বাড়াবাড়ি।
ثَبِّتْ أَقْدَامَنَا – আমাদের পদক্ষেপ দৃঢ় রাখো, অর্থাৎ যুদ্ধের ময়দানে আমাদের পা টলতে দিও না।
الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ – সেই সম্প্রদায় যারা আল্লাহর একত্ব ও তাঁর রাসূলদের সত্যতা অস্বীকার করে।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই ধৈর্যশীল মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন, যারা বদর যুদ্ধের মতো কঠিন মুহূর্তে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিল। তাদের মুখ থেকে তখন কোনো অশোভন কথা বা বিলাপ বের হয়নি; বরং তাদের একমাত্র প্রার্থনা ছিল এই যে, “হে আমাদের রব! আমাদের ছোট-বড় সব গুনাহ মাফ করে দিন, এবং আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে যে সীমালংঘন বা বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে তাও ক্ষমা করে দিন।” তারা স্বীকার করেছে যে, মানুষের পক্ষে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, তাই তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে।
এরপর তারা দুটি জিনিস চেয়েছে: প্রথমত, “আমাদের পা দৃঢ় রাখুন” – অর্থাৎ শত্রুর মোকাবিলায় যেন আমাদের সাহস না ভাঙে, পিছু হটতে না হয়, এবং দ্বীনের ওপর অটল থাকতে পারি। দ্বিতীয়ত, “আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের ওপর বিজয় দিন” – কারণ তারা জানে, বিজয় কেবল আল্লাহর হাতেই, মানুষের শক্তি বা অস্ত্রে নয়। এই প্রার্থনার মাধ্যমে তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা প্রকাশ করেছে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চেয়েছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের কর্তব্য হলো বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, কারণ গুনাহ মাফ না হলে কোনো কাজই কবুল হয় না।
নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সীমালংঘনের জন্য ক্ষমা চাওয়া বিনয়ের পরিচায়ক, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
যুদ্ধ বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা ও অটল থাকার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া জরুরি, কারণ প্রকৃত শক্তি আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।
বিজয় শুধু সংখ্যা বা অস্ত্রে হয় না, বরং আল্লাহর সাহায্যেই হয়; তাই মুমিনের উচিত সবসময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
এই প্রার্থনা আমাদের শেখায় যে, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে সফলতা পেতে হলে প্রথমে আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, তারপর আল্লাহর ওপর নির্ভর করে কাজ করতে হবে।
আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো
আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।
তারা আর কিছুই বলেনি-শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।