যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُؤْذُونَ = কষ্ট দেয়, আঘাত করে।
لَعَنَهُمُ = তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
مُهِينًا = লাঞ্ছনাকর, অপমানজনক।
তাফসীর:
যারা আল্লাহ তা‘আলাকে কষ্ট দেয়—যেমন তাঁর সাথে শিরক করা, তাঁর অবাধ্যতা করা, তাঁকে সন্তান বা অংশীদার সাব্যস্ত করা—এবং যারা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দেয়—মৌখিকভাবে মিথ্যা বলা, গালি দেওয়া, ‘কবি’ বা ‘পাগল’ বলা, অথবা কর্মগতভাবে তাঁর প্রতি অসম্মান করা বা তাঁর আদেশ অমান্য করা—আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের রহমত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করেছেন এবং অভিশাপ দিয়েছেন। দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমান, আর আখিরাতে তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর ও অপমানজনক শাস্তি। এটি তাদের কৃতকর্মেরই উপযুক্ত প্রতিফল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। তাঁকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহকে কষ্ট দেওয়ার সমতুল্য, যা মারাত্মক গুনাহ।
যারা নবীজীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে, আল্লাহ তাদের সম্মান বৃদ্ধি করেন; আর যারা তাঁকে কষ্ট দেয়, তারা আল্লাহর অভিশাপ ও লাঞ্ছনাকর শাস্তির সম্মুখীন হবে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, কোনো নবী, রাসূল বা ধর্মীয় নেতার প্রতি অসম্মান করা কখনোই কাম্য নয়; বরং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের ঈমানের দাবি।
দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর অবাধ্যতা ও নবীপ্রেমের ঘাটতি মানুষকে অপমান ও লাঞ্ছনার মধ্যে ফেলে দিতে পারে, আর আখিরাতের শাস্তি তো চিরস্থায়ী—তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকা।
নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী-পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।