Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
মুনাফিকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ
১. গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- بَشِّرِ (বাশশির): সাধারণত 'সুসংবাদ দেওয়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে তা বিপরীত অর্থে অর্থাৎ 'জানিয়ে দাও' বা 'সংবাদ দাও' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ তাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে তা মোটেই সুখকর নয়।
- الْمُنَافِقِينَ (আল-মুনাফিকীন): মুনাফিকরা, যারা মুখে ঈমান আনে কিন্তু অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখে। তারা দ্বিমুখী চরিত্রের মানুষ।
- عَذَابًا أَلِيمًا (আযাবান আলিমান): অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, বেদনাদায়ক শাস্তি।
২. আয়াতের বিস্তারিত তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন, হে নবী! তুমি মুনাফিকদেরকে সেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা জানিয়ে দাও যা তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
মুনাফিকরা হলো সেই সমস্ত লোক, যারা বাহ্যিকভাবে মুসলিমদের সাথে থাকে, নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান থেকে শূন্য। তারা ইসলামের শত্রুদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে এবং মুসলিমদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে তারা সত্যিকারের কাফিরদের চেয়েও বেশি ঘৃণ্য। কারণ তারা ইসলাম ও মুসলিমদেরকে প্রতারিত করে।
আল্লাহ তাআলা এখানে 'বাশশির' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণত সুসংবাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ও ভীতিপ্রদর্শনকারী শৈলী। অর্থাৎ, যে শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তা এতটাই ভয়াবহ যে, তাকে তাদের জন্য 'সংবাদ' হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। কুরআনের এই শৈলী বোঝায় যে, মুনাফিকদের জন্য জাহান্নামের যে আগুন প্রস্তুত, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কষ্টদায়ক হবে, যা তারা কখনো এড়াতে পারবে না। এই শাস্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দেওয়া হবে।
৩. আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
- মুনাফিকি একটি মারাত্মক অপরাধ: ইসলামের ইতিহাসে মুনাফিকরা সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের উচিত মুনাফিকি থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করা।
- বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যতা: একজন মুমিনের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। মুখে ঈমান বলা আর অন্তরে কুফরি পোষণ করা ঘোরতর গুনাহ। আমাদের অন্তর ও বাহ্যিক আচরণ সবসময় ঈমানের আলোয় আলোকিত রাখতে হবে।
- আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্কতা: এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক করে। আমাদের উচিত এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, যা আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির কারণ হয়।
- সততা ও বিশ্বস্ততা: ইসলাম সততা ও বিশ্বস্ততার উপর প্রতিষ্ঠিত। মুনাফিকি হলো প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা উচিত।
- কুরআনের ভীতিপ্রদর্শন শৈলী: কুরআন মাজিদ মানুষকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন শৈলী ব্যবহার করেছে। আমাদের উচিত কুরআনের এই সতর্কবাণীগুলোকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা এবং নিজেদেরকে সংশোধন করা।
📜 আয়াত 136-140 — সূরা আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 138
সূরা আন-নিসা আয়াত 138 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে…সূরা আয়াত 138/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 136–140. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আন-নিসা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


