আন-নিসা · 138/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ۝١٣٨
Bashshiril munaafiqeena bi anna lahum `azaaban aleemaa
📖 বাংলা অর্থ
সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
📜

অনুবাদ — Tafsir

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

মুনাফিকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ

১. গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • بَشِّرِ (বাশশির): সাধারণত 'সুসংবাদ দেওয়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে তা বিপরীত অর্থে অর্থাৎ 'জানিয়ে দাও' বা 'সংবাদ দাও' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ তাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে তা মোটেই সুখকর নয়।
  • الْمُنَافِقِينَ (আল-মুনাফিকীন): মুনাফিকরা, যারা মুখে ঈমান আনে কিন্তু অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখে। তারা দ্বিমুখী চরিত্রের মানুষ।
  • عَذَابًا أَلِيمًا (আযাবান আলিমান): অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, বেদনাদায়ক শাস্তি।

২. আয়াতের বিস্তারিত তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন, হে নবী! তুমি মুনাফিকদেরকে সেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা জানিয়ে দাও যা তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

মুনাফিকরা হলো সেই সমস্ত লোক, যারা বাহ্যিকভাবে মুসলিমদের সাথে থাকে, নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান থেকে শূন্য। তারা ইসলামের শত্রুদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখে এবং মুসলিমদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে তারা সত্যিকারের কাফিরদের চেয়েও বেশি ঘৃণ্য। কারণ তারা ইসলাম ও মুসলিমদেরকে প্রতারিত করে।

আল্লাহ তাআলা এখানে 'বাশশির' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণত সুসংবাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ও ভীতিপ্রদর্শনকারী শৈলী। অর্থাৎ, যে শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তা এতটাই ভয়াবহ যে, তাকে তাদের জন্য 'সংবাদ' হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। কুরআনের এই শৈলী বোঝায় যে, মুনাফিকদের জন্য জাহান্নামের যে আগুন প্রস্তুত, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কষ্টদায়ক হবে, যা তারা কখনো এড়াতে পারবে না। এই শাস্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দেওয়া হবে।

৩. আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. মুনাফিকি একটি মারাত্মক অপরাধ: ইসলামের ইতিহাসে মুনাফিকরা সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের উচিত মুনাফিকি থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করা।
  2. বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যতা: একজন মুমিনের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। মুখে ঈমান বলা আর অন্তরে কুফরি পোষণ করা ঘোরতর গুনাহ। আমাদের অন্তর ও বাহ্যিক আচরণ সবসময় ঈমানের আলোয় আলোকিত রাখতে হবে।
  3. আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্কতা: এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক করে। আমাদের উচিত এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, যা আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির কারণ হয়।
  4. সততা ও বিশ্বস্ততা: ইসলাম সততা ও বিশ্বস্ততার উপর প্রতিষ্ঠিত। মুনাফিকি হলো প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা উচিত।
  5. কুরআনের ভীতিপ্রদর্শন শৈলী: কুরআন মাজিদ মানুষকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন শৈলী ব্যবহার করেছে। আমাদের উচিত কুরআনের এই সতর্কবাণীগুলোকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা এবং নিজেদেরকে সংশোধন করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 136-140 — আন-নিসা

136يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنزَلَ مِن قَبْلُ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর রসূলও তাঁর কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রসূলের উপর এবং সেসমস্ত কিতাবের উপর, যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতিপূর্বে। যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।
137إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا
যারা একবার মুসলমান হয়ে পরে পুনরায় কাফের হয়ে গেছে, আবার মুসলমান হয়েছে এবং আবারো কাফের হয়েছে এবং কুফরীতেই উন্নতি লাভ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে না কখনও ক্ষমা করবেন, না পথ দেখাবেন।
138بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
139الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۚ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا
যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।
140وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ إِنَّكُمْ إِذًا مِّثْلُهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
138আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 138

সূরা আন-নিসা আয়াত 138 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সেসব মুনাফেককে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে…

সূরা আয়াত 138/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 136–140. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না