এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সব লোকের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে বন্ধু, সাহায্যকারী ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে। তারা কাফিরদের কাছ থেকে সাহায্য, সমর্থন ও বন্ধুত্ব কামনা করে এবং মুমিনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদেরই ঘনিষ্ঠ হয়। আল্লাহ তাআলা তাদের এই আচরণকে বিস্ময়কর ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন করছেন: তারা কি কাফিরদের কাছে সম্মান, শক্তি ও বিজয় খুঁজছে? অথচ সমস্ত সম্মান, শক্তি, ক্ষমতা ও বিজয় একমাত্র আল্লাহ তাআলারই হাতে। তিনি যাকে চান সম্মানিত করেন, যাকে চান অপদস্থ করেন। কাফিরদের কাছে কোনো সম্মান বা শক্তি নেই যা তারা কাউকে দিতে পারে। বরং প্রকৃত সম্মান ও শক্তি তো কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই পাওয়া যায়। সুতরাং মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা এবং মুমিনদেরই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা, কারণ আল্লাহই সর্বশক্তিমান এবং তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্মান ও বিজয় দান করেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুমিনের পরিচয় হলো সে মুমিনদেরই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, কাফিরদের নয়। কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা মুমিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
সম্মান, শক্তি ও বিজয় একমাত্র আল্লাহর কাছেই। আল্লাহ যাকে চান সম্মান দেন, আর যাকে চান অপমানিত করেন। তাই আল্লাহর ওপরই ভরসা করা উচিত, অন্য কারো ওপর নয়।
যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কাছে সম্মান বা সাহায্য খোঁজে, সে কখনোই সফলকাম হবে না। বরং তার লাঞ্ছনা ও অপমানই হবে।
এই আয়াত মুমিনদেরকে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনচেতা হওয়ার শিক্ষা দেয়। অন্যের কাছে মাথা নত না করে শুধু আল্লাহর কাছে মাথা নত করতে শেখায়।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে মুমিনের সম্পর্ক কেবল আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের সাথে হওয়া উচিত, যা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা এনে দেয়।
যারা একবার মুসলমান হয়ে পরে পুনরায় কাফের হয়ে গেছে, আবার মুসলমান হয়েছে এবং আবারো কাফের হয়েছে এবং কুফরীতেই উন্নতি লাভ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে না কখনও ক্ষমা করবেন, না পথ দেখাবেন।
আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
এরা এমনি মুনাফেক যারা তোমাদের কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ওঁৎপেতে থাকে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের যদি কোন বিজয় অর্জিত হয়, তবে তারা বলে, আমরাও কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? পক্ষান্তরে কাফেরদের যদি আংশিক বিজয় হয়, তবে বলে, আমরা কি তোমাদেরকে ঘিরে রাখিনি এবং মুসলমানদের কবল থেকে রক্ষা করিনি? সুতরাং আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেয়ামতের দিন মীমাংসা করবেন এবং কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।