অনুবাদ — Tafsir
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- تَابُوا – তওবা করেছে, অর্থাৎ গুনাহ ও ভুল পথ থেকে ফিরে এসেছে।
- أَصْلَحُوا – নিজেদের অবস্থা সংশোধন করেছে, যা কিছু নষ্ট বা খারাপ ছিল তা ঠিক করেছে।
- وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ – আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে এবং তাঁর রজ্জু (পবিত্র কুরআন ও ইসলাম) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে।
- أَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ – নিজেদের দ্বীন (ইবাদত ও আনুগত্য) সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্যই নিবেদন করেছে, কোনো রিয়া (লোক দেখানো) বা শির্ক ছাড়া।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা পূর্বের আয়াতগুলোতে মুনাফিকদের (কপট বিশ্বাসীদের) কিছু ভয়ানক পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এই আয়াতে তিনি রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। তিনি বলছেন: যারা মুনাফিকি ও কপটতা থেকে সত্যিকার অর্থে তওবা করেছে, নিজেদের ভেতর-বাহির সংশোধন করেছে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছে এবং নিজেদের ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা, হজ-যাকাত—সবকিছু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই নিবেদন করেছে, কোনো প্রকার লোক দেখানো বা প্রদর্শনী ছাড়া—তারা আর মুনাফিকদের দলে গণ্য হবে না।
বরং আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন, এরূপ লোকেরা মুমিনদের সাথেই থাকবে। অর্থাৎ দুনিয়াতে তারা মুমিনদের ভাই, তাদের সাথে উঠাবসা করবে, তাদের ভালোবাসা পাবে এবং আখিরাতে তারা জান্নাতে মুমিনদের সঙ্গী হবে। আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুন্দর—যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা করে নিজেকে সংশোধন করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং মুমিনদের কাতারে শামিল করবেন।
এরপর আল্লাহ তাআলা আরও ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মুমিনদেরকে মহান প্রতিদান দেবেন। এই প্রতিদান শুধু দুনিয়ার সীমাবদ্ধ পুরস্কার নয়, বরং এটি জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও আসেনি।
দাওয়াতি ও শিক্ষণীয় দিক:
এই আয়াত আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মানুষ যত বড় গুনাহগারই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা। তওবার মাধ্যমে সে সম্পূর্ণ নতুন জীবন শুরু করতে পারে। ইসলাম কখনো মানুষকে হতাশ হতে দেয় না। আল্লাহ বলেন, “বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন।” (সূরা যুমার: ৫৩)
তাই আমাদের উচিত:
- নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিনে নিয়ে দেরি না করে তওবা করা।
- তওবার পর নিজের আমল ও চরিত্র সংশোধন করা।
- আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর বিধান মেনে চলা।
- সব ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই করা, লোক দেখানোর জন্য নয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিক তওবা করার এবং মুমিনদের সাথে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📜 আয়াত 144-148 — সূরা আন-নিসা
অনুবাদ — আন-নিসা 146
সূরা আন-নিসা আয়াত 146 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অবশ্য যারা তওবা করে নিয়েছে, নিজেদের অবস্থার সংস্কার করেছে এবং…সূরা আয়াত 146/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 144–148. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








