যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जो लोग बगैर इसके कि उनके पास कोई दलील आई हो ख़ुदा की आयतों में (ख्वाह मा ख्वाह) झगड़े किया करते हैं वह ख़ुदा के नज़दीक और ईमानदारों के नज़दीक सख्त नफरत खेज़ हैं, यूँ ख़ुदा हर मुतकब्बिर सरकश के दिल पर अलामत मुक़र्रर कर देता है
آيَاتِ اللهِ = আল্লাহর আয়াতসমূহ (কুরআনের আয়াত ও তাঁর নিদর্শনাবলি)।
سُلْطَانٍ = দলিল-প্রমাণ, যুক্তি-প্রমাণ।
كَبُرَ مَقْتًا = ঘৃণা ও ক্রোধ হিসেবে অত্যন্ত বড় হয়ে গেল।
يَطْبَعُ = সীলমোহর করে দেন, মোহর এঁটে দেন (অর্থাৎ হৃদয় বন্ধ করে দেন)।
مُتَكَبِّرٍ = অহংকারী, যে সত্য মেনে নিতে অহংকার করে।
جَبَّارٍ = জব্বার, অত্যাচারী, যে অন্যকে দমন করে এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণে বড় হয়ে ওঠে।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত লোকদের কথা বর্ণনা করেছেন, যারা আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য বিতর্ক করে, অথচ তাদের কাছে কোনো দলিল-প্রমাণ নেই। তারা শুধুমাত্র হঠকারিতা, অহংকার ও প্রবৃত্তির অনুসরণে সত্যকে অস্বীকার করার জন্য ঝগড়া করে। আল্লাহ বলেন, তাদের এই বিতর্ক আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত ও ক্রোধের কারণ। কারণ তারা এমন বিষয়ে বাক্য ব্যয় করে যার কোনো ভিত্তি নেই, আর তা দ্বারা তারা সত্যকে দাবিয়ে রাখতে চায়।
এরপর আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, যেমনিভাবে তিনি পূর্ববর্তী এমন বিতর্ককারীদের হৃদয়ে সত্য গ্রহণের পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তেমনি তিনি সীলমোহর এঁটে দেন প্রতিটি অহংকারী ও জব্বার (অত্যাচারী) ব্যক্তির হৃদয়ে। ফলে তারা হিদায়াত লাভ করতে পারে না, সত্য তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না, এবং তারা কোনো কল্যাণের পথ খুঁজে পায় না। তাদের অহংকার ও সত্যের প্রতি অবজ্ঞার কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরকে সত্য গ্রহণের অনুপযোগী করে দেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
সত্যকে মেনে নেওয়ার জন্য দলিল-প্রমাণ থাকা জরুরি, কিন্তু সত্যকে অস্বীকার করার জন্য দলিল ছাড়া বিতর্ক করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ।
অহংকার ও জিদ মানুষের অন্তরকে অন্ধ করে দেয়; যে ব্যক্তি সত্যের সামনে মাথা নত করতে অহংকারবোধ করে, আল্লাহ তাকে হিদায়াতের তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেন।
মুমিনদের উচিত সত্যের পথে থাকা এবং এমন বিতর্ক থেকে বিরত থাকা যা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং তা আল্লাহর ক্রোধের কারণ হয়।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, অন্তরকে পরিষ্কার রাখা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অহংকারই মানুষকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল এবং অহংকারই মানুষের সর্বনাশের মূল কারণ।
আল্লাহর আয়াত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং সত্য অনুসন্ধান করা প্রশংসনীয়, কিন্তু সত্যকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য বিতর্ক করা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সত্যকে বুঝে তা মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা।
যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালংঘনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।
যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।