ফুসসিলাত · 12/54
অনুবাদ উচ্চারণ — ফুসসিলাত
فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ۝١٢
Faqadaahunna sab`a samaawaatin fee yawmaini wa awhaa fee kulli samaaa`in amarahaa; wa zaiyannassa maaa`ad dunyaa bimasaabeeha wa hifzaa; zaalika taqdeerul `Azeezil `Aleem
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَقَضَاهُنَّ অর্থাৎ সেগুলোকে (আসমানসমূহকে) সম্পূর্ণ ও সুসম্পন্ন করা।
  • سَبْعَ سَمَاوَاتٍ — সাতটি আসমান।
  • أَمْرَهَا — তার (প্রতিটি আসমানের) নির্ধারিত কাজ, ব্যবস্থা বা আদেশ।
  • مَصَابِيحَ — উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ (আলোকিত বাতির মতো)।
  • حِفْظًا — রক্ষা করার জন্য (শয়তানদের থেকে)।
  • تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ — পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ/পরিকল্পনা।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা সাতটি আসমান সৃষ্টি করে সম্পন্ন করলেন মাত্র দু’দিনে (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার)। এর মাধ্যমে পৃথিবী ও আসমানের সৃষ্টি মোট ছয় দিনে পূর্ণ হলো — যদিও তিনি চাইলে এক মুহূর্তেই সৃষ্টি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করলেন না তাঁর গভীর হিকমত ও প্রজ্ঞার কারণে। এরপর তিনি প্রতিটি আসমানে তার নির্ধারিত কাজ ও ব্যবস্থা সম্পর্কে আদেশ দিলেন — অর্থাৎ প্রতিটি আসমানে যা যা হওয়ার ছিল, তা নির্ধারণ করে দিলেন। তারপর তিনি নিকটবর্তী আসমান (দুনিয়ার আসমান)কে সাজিয়ে দিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জ দিয়ে, যা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এবং রাতের অন্ধকারে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। সেই সাথে এই নক্ষত্রগুলোকে রক্ষাকবচ হিসেবে তৈরি করলেন, যাতে শয়তানরা উর্ধ্বজগতের গোপন কথা চুরি করতে না পারে — যখনই তারা চুরি করতে আসে, তখনই জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। এই সমস্ত কিছুই সেই সত্তার নিখুঁত পরিকল্পনা ও নির্ধারণ, যিনি সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান — কেউ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না, এবং তিনি সর্বজ্ঞ — তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই; প্রতিটি জিনিস তাঁর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে, যা তাঁর অসীম জ্ঞান ও ক্ষমতার প্রমাণ।
  2. এই বিশাল ও সুশৃঙ্খল সৃষ্টি দেখে আমাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা জন্মানো উচিত — তিনি যেভাবে আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে তিনি আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয়ও তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী পরিচালনা করছেন।
  3. নক্ষত্রপুঞ্জের সৌন্দর্য ও রক্ষাকবচ আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রক্ষা করার জন্যও ব্যবস্থা রেখেছেন — যেমন তিনি আসমানকে শয়তান থেকে রক্ষা করেছেন, তেমনি তিনি মুমিনদেরও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন যখন তারা তাঁর ওপর ভরসা করে।
  4. আল্লাহর কাজে কোনো তাড়াহুড়ো নেই; তিনি ধাপে ধাপে কাজ করেন, কিন্তু প্রতিটি কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন। আমাদের জীবনেও ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত, কারণ তাঁর পরিকল্পনা সর্বোত্তম।
  5. এই আয়াত আমাদেরকে কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে — যে সত্তা এত সুন্দরভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তাঁর বাণী অবশ্যই সত্য ও নির্ভুল।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 10-14 — ফুসসিলাত

10وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِّلسَّائِلِينَ
তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
11ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
12فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
13فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنذَرْتُكُمْ صَاعِقَةً مِّثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত।
14إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ
যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
12আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 12

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক…

সূরা আয়াত 12/54 — ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ফুসসিলাত শুনুন, ফুসসিলাত অনুবাদ, ফুসসিলাত mp3, ফুসসিলাত pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না