ফুসসিলাত · 13/54
অনুবাদ উচ্চারণ — ফুসসিলাত
فَإِنۡ أَعۡرَضُواْ فَقُلۡ أَنذَرۡتُكُمۡ صَٰعِقَةً مِّثۡلَ صَٰعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ  ۝١٣
Fa-in a`radoo faqul anzartukum saa`iqatam misla saa`iqati `Aadinw wa Samood
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَعْرَضُوا — মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, বিমুখ হওয়া।
  • أَنذَرْتُكُمْ — আমি তোমাদের সতর্ক করছি / ভয় দেখাচ্ছি।
  • صَاعِقَةً — ধ্বংসাত্মক আযাব, বজ্রপাত বা ভয়ংকর শাস্তি যা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
  • عَادٍ وَثَمُودَ — আদ ও সামুদ জাতি, যারা ইতিহাসে আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়েছিল।

তাফসীর:

হে নবী! যদি এই কাফিররা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কুরআনের মহিমা ও আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণাদি দেখার পরও ঈমান আনা থেকে বিরত থাকে, তাহলে আপনি তাদের বলে দিন: “আমি তোমাদেরকে সেই ধ্বংসাত্মক আযাবের ভয় দেখাচ্ছি, যা আদ ও সামুদ জাতির উপর নেমে এসেছিল।” আদ জাতি হুদ (আঃ)-কে এবং সামুদ জাতি সালেহ (আঃ)-কে মিথ্যা বলেছিল, তাই আল্লাহ তাদের উপর এমন ভয়াবহ শাস্তি পাঠিয়েছিলেন যা তাদের সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। মক্কার কাফিররা যখন ব্যবসার জন্য শাম দেশে যেত, তখন তারা পথিমধ্যে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত। তাই তাদের জন্য এটাই ছিল সবচেয়ে বড় উপদেশ ও সতর্কবার্তা যে, তারা যদি কুরআন ও রাসূলকে অস্বীকার করে, তবে তাদের উপরও অনুরূপ আযাব নেমে আসতে পারে। এই সতর্কবাণীটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর — যে ব্যক্তি সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তার পরিণাম অনিবার্যভাবে ধ্বংস।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। ইতিহাসের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ঘটনা আমাদের জন্য চিরন্তন শিক্ষা।
  2. নবীগণ কখনো সত্য গোপন করেননি; তারা কঠোর সতর্কবাণীও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। আমাদের উচিত সত্য কথা বলতে সাহসী হওয়া।
  3. আদ ও সামুদ জাতির ধ্বংস প্রমাণ করে যে, আল্লাহর শক্তি অপরিসীম এবং তিনি যেকোনো সময় অহংকারী ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের শাস্তি দিতে সক্ষম।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর রহমত যেমন বিশাল, তেমনি তাঁর আযাবও অত্যন্ত কঠোর। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর রাসূলের পথ অনুসরণ করা।
  5. ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করলে মানুষ ভুল পথে চলা থেকে বিরত থাকে। কুরআনে পূর্ববর্তী জাতিদের ঘটনা বর্ণনার উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে সতর্ক করা এবং সঠিক পথে পরিচালিত করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — ফুসসিলাত

11ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلۡأَرۡضِ ٱئۡتِيَا طَوۡعًا أَوۡ كَرۡهًا قَالَتَآ أَتَيۡنَا طَآئِعِينَ 
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
12فَقَضَىٰهُنَّ سَبۡعَ سَمَٰوَاتٍ فِي يَوۡمَيۡنِ وَأَوۡحَىٰ فِي كُلِّ سَمَآءٍ أَمۡرَهَاۚ وَزَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنۡيَا بِمَصَٰبِيحَ وَحِفۡظًاۚ ذَٰلِكَ تَقۡدِيرُ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡعَلِيمِ 
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
13فَإِنۡ أَعۡرَضُواْ فَقُلۡ أَنذَرۡتُكُمۡ صَٰعِقَةً مِّثۡلَ صَٰعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ 
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত।
14إِذۡ جَآءَتۡهُمُ ٱلرُّسُلُ مِنۢ بَيۡنِ أَيۡدِيهِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّا ٱللَّهَۖ قَالُواْ لَوۡ شَآءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَٰٓئِكَةً فَإِنَّا بِمَآ أُرۡسِلۡتُم بِهِۦ كَٰفِرُونَ 
যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।
15فَأَمَّا عَادٌ فَٱسۡتَكۡبَرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَقَالُواْ مَنۡ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةًۖ أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِي خَلَقَهُمۡ هُوَ أَشَدُّ مِنۡهُمۡ قُوَّةًۖ وَكَانُواْ بِـَٔايَٰتِنَا يَجۡحَدُونَ 
যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর ? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 13

সূরা আয়াত 13/54 — ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ফুসসিলাত শুনুন, ফুসসিলাত অনুবাদ, ফুসসিলাত mp3, ফুসসিলাত pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না