আল-হুজুরাত · 9/18
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-হুজুরাত
وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱقۡتَتَلُواْ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَاۖ فَإِنۢ بَغَتۡ إِحۡدَىٰهُمَا عَلَى ٱلۡأُخۡرَىٰ فَقَٰتِلُواْ ٱلَّتِي تَبۡغِي حَتَّىٰ تَفِيٓءَ إِلَىٰٓ أَمۡرِ ٱللَّهِۚ فَإِن فَآءَتۡ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَا بِٱلۡعَدۡلِ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ  ۝٩
Wa in taaa`ifataani minal mu`mineenaq tataloo faaslihoo bainahumaa fa-im baghat ih daahumaa `alal ukhraa faqaatilul latee tabhee hattaa tafeee`a ilaaa amril laah; fa-in faaa`t fa aslihoo bainahumaa bil`adli wa aqsitoo innal laaha yuhibbul muqsiteen
📖 বাংলা অর্থ
যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদেরকে পছন্দ করেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • طَائِفَتَانِ – দুটি দল বা সম্প্রদায়।
  • اقْتَتَلُوا – পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
  • فَأَصْلِحُوا – তখন তোমরা মীমাংসা করে দাও।
  • بَغَتْ – সীমালঙ্ঘন করেছে, অত্যাচার করেছে।
  • تَفِيءَ – ফিরে আসে, প্রত্যাবর্তন করে।
  • أَقْسِطُوا – ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।
  • الْمُقْسِطِينَ – ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

মুমিনদের মধ্যে যদি দুটি দল পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তাহলে অন্যান্য মুমিনদের কর্তব্য হলো তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া। প্রথমে তাদেরকে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাতে হবে এবং সেই অনুযায়ী রায় মেনে নিতে উৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু যদি একটি দল সীমালঙ্ঘন করে এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধান মেনে নিতে অস্বীকার করে, তাহলে সবার কর্তব্য হলো সেই সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যবস্থা নেওয়া—যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে এবং অন্যায় পরিত্যাগ করে। যখন তারা ফিরে আসবে এবং ন্যায়ের পথে দাঁড়াবে, তখন আবার তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ মীমাংসা করে দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ ইনসাফের সাথে রায় দিতে হবে। কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন, যারা নিজেদের সিদ্ধান্তে ও বিচারে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলামে ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম—মুমিনদের মধ্যে যত বড় সংঘাতই হোক না কেন, তা সমাধানের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
  2. সংঘাত নিরসনে প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও আল্লাহর বিধানের দিকে আহ্বান; সহিংসতা নয়।
  3. অন্যায়ের প্রতি প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। যে দল সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে অত্যাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোও একটি নৈতিক দায়িত্ব।
  4. শান্তি প্রতিষ্ঠার সময়ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা অপরিহার্য—শত্রুর প্রতিও ইনসাফ করতে হবে।
  5. আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন—এটি মুমিনের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয়, যা তাকে সর্বদা ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে।
  6. এই আয়াত প্রমাণ করে যে ইসলাম কখনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা সমর্থন করে না; বরং সংঘাত নিরসনে একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক পথ দেখায়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 7-11 — আল-হুজুরাত

7وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ فِيكُمۡ رَسُولَ ٱللَّهِۚ لَوۡ يُطِيعُكُمۡ فِي كَثِيرٍ مِّنَ ٱلۡأَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ حَبَّبَ إِلَيۡكُمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَزَيَّنَهُۥ فِي قُلُوبِكُمۡ وَكَرَّهَ إِلَيۡكُمُ ٱلۡكُفۡرَ وَٱلۡفُسُوقَ وَٱلۡعِصۡيَانَۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلرَّٰشِدُونَ 
তোমরা জেনে রাখ তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন। তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের আবদার মেনে নেন, তবে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা হৃদয়গ্রাহী করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, পাপাচার ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বনকারী।
8فَضۡلًا مِّنَ ٱللَّهِ وَنِعۡمَةًۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ 
এটা আল্লাহর কৃপা ও নিয়ামতঃ আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
9وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱقۡتَتَلُواْ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَاۖ فَإِنۢ بَغَتۡ إِحۡدَىٰهُمَا عَلَى ٱلۡأُخۡرَىٰ فَقَٰتِلُواْ ٱلَّتِي تَبۡغِي حَتَّىٰ تَفِيٓءَ إِلَىٰٓ أَمۡرِ ٱللَّهِۚ فَإِن فَآءَتۡ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَا بِٱلۡعَدۡلِ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ 
যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদেরকে পছন্দ করেন।
10إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ إِخۡوَةٌ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَ أَخَوَيۡكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ 
মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।
11يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّن قَوۡمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُواْ خَيۡرًا مِّنۡهُمۡ وَلَا نِسَآءٌ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيۡرًا مِّنۡهُنَّۖ وَلَا تَلۡمِزُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ بِئۡسَ ٱلِٱسۡمُ ٱلۡفُسُوقُ بَعۡدَ ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ 
মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।
আল-হুজুরাতকুরআন সূচী
18আয়াত
মাদানীRevelation
9আয়াত

অনুবাদ — আল-হুজুরাত 9

সূরা আয়াত 9/18 — আল-হুজুরাত الحجرات (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-হুজুরাত শুনুন, আল-হুজুরাত অনুবাদ, আল-হুজুরাত mp3, আল-হুজুরাত pdf. আয়াত 7–11. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না