আল-মায়িদা · 19/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَىٰ فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِن بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ ۖ فَقَدْ جَاءَكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ۝١٩
Yaaa Ahlal Kitaabi qad jaaa`akum Rasoolunaa yubaiyinu lakum `alaa fatratim minal Rusuli an taqooloo maa jaaa`anaa mim basheerinw wa laa nazeerin faqad jaaa`akum basheerunw wa nazeer; wallaahu `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 বাংলা অর্থ
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ফাতরাতুন মিনার রুসুল (فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ): অর্থাৎ রাসূলদের আগমন বন্ধ থাকার দীর্ঘ সময়কাল। অর্থাৎ এক রাসূলের পর আরেক রাসূল না আসার যে বিরতি বা ফাঁকা সময়।
  • বাশীর (بَشِيرٍ): সুসংবাদদাতা, যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ ও পুরস্কারের কথা জানায়।
  • নাযীর (نَذِيرٍ): সতর্ককারী, যে ব্যক্তি আল্লাহর শাস্তি ও আযাব থেকে ভয় দেখায়।

তাফসীর:

হে আহলে কিতাব! (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা) তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসেছেন। তিনি তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে সত্য ও হিদায়াতের কথা বর্ণনা করছেন। এই রাসূল প্রেরিত হয়েছেন এমন এক সময়ে যখন দীর্ঘকাল ধরে কোনো রাসূল আসেননি। ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন পর্যন্ত প্রায় পাঁচশো নব্বই বছর কোনো রাসূল আসেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর তোমাদের কাছে রাসূল পাঠানো হলো।

এর কারণ হলো, যাতে তোমরা কোনো অজুহাত পেশ করতে না পারো যে, “আমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাতা বা সতর্ককারী আসেনি।” কারণ, এখন তো তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে গেছেন। তিনি মুমিনদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন এবং পাপীদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে সতর্ক করেন। কাজেই এখন আর কোনো অজুহাতের সুযোগ নেই।

আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাঁর ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে তিনি যখন যাকে ইচ্ছা রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন, এবং যাকে ইচ্ছা তাঁর রাসূলের অনুসরণে সফল করেন। তিনি অবাধ্যকে শাস্তি দিতে এবং অনুগতকে পুরস্কৃত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি কাউকে অজুহাতের সুযোগ না দিয়ে রাসূল পাঠিয়ে পথ দেখিয়ে দেন।
  2. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন মানবজাতির জন্য বিরাট রহমত। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর আগমন প্রমাণ করে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভুলে যাননি।
  3. প্রতিটি মানুষের উচিত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পথনির্দেশ গ্রহণ করা এবং অজুহাত তৈরি না করা।
  4. আল্লাহর ক্ষমতা অপরিসীম। তিনি যা চান তাই করেন। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটে না।
  5. ইসলামের বার্তা হলো সুসংবাদ ও সতর্কবাণী উভয়টিই। একজন মুমিনের উচিত সুসংবাদ গ্রহণ করা এবং সতর্কবাণী থেকে শিক্ষা নেওয়া।


📜 আয়াত 17-21 — সূরা আল-মায়িদা

17لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَن يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ۗ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ। আপনি জিজ্ঞেস করুন, যদি তাই হয়, তবে বল যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তাঁর জননী এবং ভূমন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারে? নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহ তা’আলার আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
18وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَىٰ نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ ۚ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُم بِذُنُوبِكُم ۖ بَلْ أَنتُم بَشَرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি দান করবেন? বরং তোমারও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন। নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহরই আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
19يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَىٰ فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِن بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ ۖ فَقَدْ جَاءَكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
20وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنبِيَاءَ وَجَعَلَكُم مُّلُوكًا وَآتَاكُم مَّا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ
যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।
21يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَىٰ أَدْبَارِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
19আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 19

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 19 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের…

সূরা আয়াত 19/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 17–21. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না