Qa iz qaala Moosaa liqawmihee yaa qawmiz kuroo ni`matal laahi `alaikum iz ja`ala feekum mulookanw wa aataakum maa lam yu`ti ahadam minal `aalameen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ रसूल उनको वह वक्त याद (दिलाओ) जब मूसा ने अपनी क़ौम से कहा था कि ऐ मेरी क़ौम जो नेअमते ख़ुदा ने तुमको दी है उसको याद करो इसलिए कि उसने तुम्हीं लोगों से बहुतेरे पैग़म्बर बनाए और तुम ही लोगों को बादशाह (भी) बनाया और तुम्हें वह नेअमतें दी हैं जो सारी ख़ुदायी में किसी एक को न दीं
যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
মুলুকান (ملوكًا): অর্থাৎ স্বাধীন, নিজেদের ব্যাপারে নিজেরা কর্তৃত্বশীল।
আলামীন (العالمين): এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদের যুগের সমস্ত জাতি ও সম্প্রদায়।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী পাঠিয়েছেন, যারা তোমাদেরকে হেদায়াতের পথে ডেকেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে রাজা-বাদশাহ বানিয়েছেন—অর্থাৎ ফিরআউনের গোলামি ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করে তোমাদেরকে নিজেদের ব্যাপারে স্বাধীন কর্তৃত্ব দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদেরকে এমন সব নিয়ামত দান করেছেন—যেমন মন্নি ও সালওয়া (আসমানী খাদ্য), মেঘের ছায়া, সমুদ্র বিভক্ত করা ইত্যাদি—যা তোমাদের যুগের আর কোনো জাতিকে দেননি।
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে বনী ইসরাঈলের পূর্বপুরুষদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নির্দেশ অমান্য করেছিল এবং তাঁর সাথে বিদ্রোহী আচরণ করেছিল। এতে করে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে যে, আপনার পূর্ববর্তী নবীদের সাথেও তাদের সম্প্রদায় এরূপ আচরণ করেছে। এটি আপনার জন্য ধৈর্যের শিক্ষা এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা এবং তা নিয়ে আলোচনা করা একটি ইবাদত, যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ যাদেরকে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব দান করেন, তাদের উচিত তা আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য করা এবং অহংকার না করা।
নবী-রাসূলদের প্রতি সম্প্রদায়ের বিরূপ আচরণ নতুন কিছু নয়; তাই সত্যের পথে থাকা ব্যক্তিদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অশেষ দয়ালু—তিনি অযোগ্য জাতিকেও নিয়ামত দিয়ে পরীক্ষা করেন, যাতে তারা কৃতজ্ঞ হয়।
অতীতের জাতিগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি দান করবেন? বরং তোমারও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন। নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহরই আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
তারা বললঃ হে মূসা, সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব।’
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।