Wa yaqoolul lazeena aamanooo ahaaa`ulaaa`il lazeena aqsamoo billaahi jahda aimaanihim innahum lama`akum; habitat a`maaluhum fa asbahoo khaasireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
মুসলমানরা বলবেঃ এরাই কি সেসব লোক, যারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করত যে, আমরা তোমাদের সাথে আছি? তাদের কৃতকর্মসমূহ বিফল হয়ে গেছে, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और मोमिनीन (जब उन पर नेफ़ाक़ ज़ाहिर हो जाएगा तो) कहेंगे क्या ये वही लोग हैं जो सख्त से सख्त क़समें खाकर (हमसे) कहते थे कि हम ज़रूर तुम्हारे साथ हैं उनका सारा किया धरा अकारत हुआ और सख्त घाटे में आ गए
মুসলমানরা বলবেঃ এরাই কি সেসব লোক, যারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করত যে, আমরা তোমাদের সাথে আছি? তাদের কৃতকর্মসমূহ বিফল হয়ে গেছে, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ – অর্থাৎ, তারা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে কঠোর শপথ করত।
حَبِطَتْ – অর্থাৎ, নিষ্ফল হয়ে গেল, বিনষ্ট হয়ে গেল।
خَاسِرِينَ – অর্থাৎ, ক্ষতিগ্রস্ত, যারা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যখন মুনাফিকদের (কপট বিশ্বাসীদের) চেহারা ফাঁস হয়ে যাবে এবং তাদের গোপন বিষয়গুলো প্রকাশ হয়ে পড়বে, তখন মুমিনগণ বিস্ময় ও আশ্চর্যের সাথে একে অপরকে বলবেন: “এরাই কি সেই লোক, যারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলত যে, তারা আমাদের সাথেই আছে? তারা আমাদের সাথেই বিশ্বাস, সাহায্য ও বন্ধুত্বে একাত্ম?” অর্থাৎ, তারা এমন জোরালো শপথ করত যে, তাদের মিথ্যা কথা কেউ সন্দেহও করত না। কিন্তু যখন সত্য প্রকাশ পেল, তখন তাদের সব কাজই নিষ্ফল হয়ে গেল। কারণ, তারা যে সকল সৎকর্ম করত (নামায, রোযা, দান ইত্যাদি) তা ছিল শুধু প্রদর্শনের জন্য, প্রকৃত ঈমানের ভিত্তিতে নয়। তাই আল্লাহর কাছে সেসবের কোনো মূল্য নেই। ফলে তারা দুনিয়াতেও অপমানিত হলো এবং আখিরাতেও তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্ত হলো—দুনিয়ায় তাদের মুনাফিকি ধরা পড়ায় লজ্জিত হলো এবং আখিরাতে চিরস্থায়ী শাস্তির সম্মুখীন হলো।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুনাফিকি ও প্রতারণার পথ কখনো টেকসই হয় না। কিছুদিন পরেই আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেন এবং মুনাফিকরা লজ্জিত হয়।
শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়; অন্তর ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস ছাড়াই ভালো কাজ করে, তার সেই কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
মুমিনদের কর্তব্য হলো ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা শপথ দেখে হতাশ না হয়ে সত্যের পথে অবিচল থাকা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আমলের গ্রহণযোগ্যতার মূল শর্ত হলো খাঁটি ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ যেন আল্লাহর জন্যই হয়, লোক দেখানোর জন্য নয়।
ক্ষতির আসল অর্থ হলো আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া। দুনিয়ার কোনো ক্ষতি বড় নয়, বড় ক্ষতি হলো আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় হারিয়ে ফেলা।
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
বস্তুতঃ যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলেঃ আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হই। অতএব, সেদিন দুরে নয়, যেদিন আল্লাহ তা’আলা বিজয় প্রকাশ করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ দেবেন-ফলে তারা স্বীয় গোপন মনোভাবের জন্যে অনুতপ্ত হবে।
মুসলমানরা বলবেঃ এরাই কি সেসব লোক, যারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করত যে, আমরা তোমাদের সাথে আছি? তাদের কৃতকর্মসমূহ বিফল হয়ে গেছে, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে।
হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।