Allazeena yuzaahiroona minkum min nisaaa`ihim maa hunnaa ummahaatihim in ummahaatuhum illal laaa`ee waladnahum; wa innaahum la yaqooloona munkaram minal qawli wa zooraa; wa innal laaha la`afuwwun ghafoor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तुम में से जो लोग अपनी बीवियों के साथ ज़हार करते हैं अपनी बीवी को माँ कहते हैं वह कुछ उनकी माएँ नहीं (हो जातीं) उनकी माएँ तो बस वही हैं जो उनको जनती हैं और वह बेशक एक नामाक़ूल और झूठी बात कहते हैं और ख़ुदा बेशक माफ करने वाला और बड़ा बख्शने वाला है
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُظَاهِرُونَ – যারা ‘যিহার’ করে; অর্থাৎ স্ত্রীকে বলে, “তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো” (অর্থাৎ তুমি আমার জন্য হারাম)।
مُنكَرًا – ঘৃণিত ও শরিয়ত-বিরোধী কথা।
زُورًا – মিথ্যা ও বাতিল কথা।
তাফসির:
যারা তোমাদের মধ্যে নিজেদের স্ত্রীদের থেকে ‘যিহার’ করে, অর্থাৎ স্বামী তার স্ত্রীকে বলে, “তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো” — যার মাধ্যমে সে স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম ঘোষণা করে, তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে এবং শরিয়তের পরিপন্থী কাজ করে। কারণ, তাদের স্ত্রীরা কখনোই তাদের মা হয়ে যায় না। মা তো কেবল সেই নারীরাই, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। স্ত্রীদেরকে মায়ের সাথে তুলনা করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া কথা। এ কথা বলা অত্যন্ত জঘন্য, অস্বাভাবিক ও ঘৃণিত — যা শরিয়ত, বিবেক ও প্রকৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি এই ভুলের জন্য তাওবার সুযোগ রেখেছেন এবং কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নির্ধারণ করেছেন, যাতে কেউ এই গুনাহে লিপ্ত হয়ে আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার দাম্পত্য জীবন রক্ষা পায়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম স্ত্রীর মর্যাদা রক্ষা করেছে এবং তাকে মায়ের মতো হারাম বলে চালানোর কোনো সুযোগ দেয়নি — এটি নারীর প্রতি ইসলামের সম্মান ও ইনসাফের প্রমাণ।
মুখের কোনো কথা শরিয়তের বিধান পরিবর্তন করতে পারে না; বাস্তবতা ও সত্যের ভিত্তিতেই বিধান নির্ধারিত হয়।
ইসলাম গুনাহের পরও তাওবার দরজা খোলা রেখেছে এবং ভুলকারীর জন্য কাফফারার ব্যবস্থা রেখেছে — যা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার অসীম দরজার পরিচয়।
এই আয়াত মুসলিমদের শেখায় যে, দাম্পত্য সম্পর্ক অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ; এতে খেল-তামাশা বা মনগড়া কথা বলা উচিত নয়, বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এত ব্যাপক যে, বান্দা ভুল করলেও আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে সে আল্লাহর প্রিয় হতে পারে — এটি মুমিনের জন্য চিরকালের আশার বাণী।
যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথাবার্তা শুনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।