আল-আনআম · 111/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
۞ وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَىٰ وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَّا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ ۝١١١
Wa law annanaa nazzal naaa ilaihimul malaaa`ikata wa kallamahumul mawtaa wa hasharnaa `alaihim kulla shai`in qubulam maa kaanoo liyu`minooo illaaa ai yashaaa`al laahu wa laakinna aksarahum yajhaloon
📖 বাংলা অর্থ
আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • قُبُلًا — দলেবলে, সম্মুখে, চোখের সামনে প্রকাশ্যে।
  • حَشَرْنَا — একত্র করতাম, জড়ো করতাম।
  • يَجْهَلُونَ — তারা জানে না, অজ্ঞ।

তাফসীর:

হে নবী! এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করছেন যে, যদি আমরা তাদের প্রস্তাবিত সব অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে দিতাম—আকাশ থেকে ফেরেশতাদের অবতরণ করাতাম, তারা তাদের চোখের সামনে ফেরেশতাদের দেখতে পেত, মৃত ব্যক্তিদের জীবিত করে তাদের সাথে কথা বলাতাম, যারা সত্যায়ন করত যে আপনি সত্য নবী, এবং তাদের চাওয়া প্রতিটি জিনিস দলেবলে তাদের সামনে উপস্থিত করতাম—তবুও তারা ঈমান আনত না, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজে তাদের অন্তরে ঈমানের তাওফিক দিতেন। কারণ ঈমান আনা কোনো বাহ্যিক প্রমাণ দেখার ওপর নির্ভর করে না, বরং তা আল্লাহর ইচ্ছা ও হিদায়াতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানে না। তারা মনে করে, যদি তারা এসব অলৌকিক ঘটনা দেখত, তাহলে তারা ঈমান আনত। অথচ বাস্তবতা হলো, তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়, তাই কোনো মু‘জিযাই তাদের উপকার করত না।

ফায়েদা বা শিক্ষা:

  1. ঈমান আনা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছা ও হিদায়াতের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দেন, আর যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে নিজের ও অন্যদের জন্য হিদায়াতের দো‘আ করা।
  2. অলৌকিক ঘটনা বা মু‘জিযা দেখে কেউ ঈমান আনে না, যদি না আল্লাহ তার অন্তর খুলে দেন। যেমন ফেরাউন, আবু জাহল প্রমুখ বহু অলৌকিক ঘটনা দেখেও ঈমান আনেনি। তাই আমাদের কর্তব্য কুরআনের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা, আরও মু‘জিযার অপেক্ষা না করা।
  3. মানুষের অন্তরের অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন। তাই কোনো ব্যক্তির ঈমান আনা বা না আনা নিয়ে আমাদের হতাশ হওয়া উচিত নয়; বরং দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে।
  4. এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সত্য গ্রহণের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা ও আল্লাহর তাওফিক। যে ব্যক্তি সত্য গ্রহণে আগ্রহী নয়, তার কাছে যত প্রমাণই পেশ করা হোক না কেন, সে তা গ্রহণ করবে না। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা এবং আল্লাহর কাছে খোলা অন্তর প্রার্থনা করা।


📜 আয়াত 109-113 — আল-আনআম

109وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِن جَاءَتْهُمْ آيَةٌ لَّيُؤْمِنُنَّ بِهَا ۚ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِندَ اللَّهِ ۖ وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ لَا يُؤْمِنُونَ
তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই ?
110وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।
111۞ وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَىٰ وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَّا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ
আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।
112وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا ۚ وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ ۖ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।
113وَلِتَصْغَىٰ إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُم مُّقْتَرِفُونَ
অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
111আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 111

সূরা আল-আনআম আয়াত 111 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে…

সূরা আয়াত 111/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 109–113. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না