আল-আনআম · 110/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ۝١١٠
Wa nuqallibu af`idatahum wa absaarahum kamaa lam yu`minoo biheee awwala marratinw wa wa nazaruhum fee tughyaanihim ya`mahoon
📖 বাংলা অর্থ
আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • نُقَلِّبُ – আমরা ওলট-পালট করে দেই, পরিবর্তন করে দেই।
  • أَفْئِدَة – অন্তরসমূহ (বহুবচন)।
  • أَبْصَار – দৃষ্টিশক্তিসমূহ (বহুবচন)।
  • طُغْيَان – সীমালঙ্ঘন, অবাধ্যতা, জিদ।
  • يَعْمَهُونَ – তারা বিভ্রান্ত ও হতবুদ্ধি হয়ে ঘোরাফেরা করে, কোনো পথ খুঁজে পায় না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, যখন কাফিররা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নবী (সা.)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তখন আল্লাহ তাদের অন্তর ও দৃষ্টিশক্তিকে উল্টে দেন। অর্থাৎ, তারা সত্য দেখার ও বুঝার যে সামর্থ্য পেয়েছিল, তা থেকে তাদের অন্তর ও চোখকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তারা যখনই কোনো নতুন নিদর্শন বা আয়াত দেখে, তখনই তা থেকে তারা উপকৃত হতে পারে না, কারণ তারা প্রথমবার যখন কুরআন ও সত্যের দাওয়াত পেয়েছিল, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং জিদ ও অহংকার দেখিয়েছিল। তাদের এই প্রথম প্রত্যাখ্যানের কারণেই আল্লাহ তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে সত্যের প্রতি বন্ধ করে দেন। এরপর তাদেরকে তাদের সীমালঙ্ঘন ও অবাধ্যতার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা হতবুদ্ধি হয়ে ঘোরাফেরা করে, কোনো দিকনির্দেশনা পায় না এবং সত্যের পথ খুঁজে পায় না। এটি তাদের জন্য একটি শাস্তিস্বরূপ, কারণ তারা নিজেরাই সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্যকে প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ, একবার সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তর ও দৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, ফলে পরবর্তীতে সত্য গ্রহণের সুযোগও হারিয়ে যায়।
  2. আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শন তখনই উপকার দেয়, যখন অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি অহংকার ও জিদের কারণে সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তার জন্য আয়াতসমূহ আর হিদায়াতের মাধ্যম থাকে না।
  3. এটি আমাদের শেখায় যে, হিদায়াত লাভের পূর্বশর্ত হলো বিনয় ও সত্য গ্রহণের আগ্রহ। যে অন্তরে এই গুণ থাকে, আল্লাহ তাকে সত্য বুঝার তাওফিক দেন।
  4. আল্লাহর শাস্তি কখনো কখনো ধীরে ধীরে আসে, যেমন এখানে বলা হয়েছে যে, তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটি একটি সতর্কবার্তা যে, পাপে অটল থাকা আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
  5. এই আয়াত মুমিনদের জন্য একটি বড় নিয়ামত যে, আল্লাহ তাদের অন্তর খুলে দিয়েছেন এবং তারা সত্যকে গ্রহণ করার সৌভাগ্য পেয়েছেন। তাই তাদের উচিত এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং সর্বদা সত্যের পথে অবিচল থাকা।


📜 আয়াত 108-112 — আল-আনআম

108وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ كَذَٰلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِم مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।
109وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِن جَاءَتْهُمْ آيَةٌ لَّيُؤْمِنُنَّ بِهَا ۚ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِندَ اللَّهِ ۖ وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ لَا يُؤْمِنُونَ
তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই ?
110وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।
111۞ وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَىٰ وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَّا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ
আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।
112وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا ۚ وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ ۖ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
110আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 110

সূরা আল-আনআম আয়াত 110 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন-তারা এর প্রতি…

সূরা আয়াত 110/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 108–112. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না