আল-আনআম · 121/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ ۗ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَىٰ أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ۖ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ ۝١٢١
Wa laa taakuloo mimaa lam yuzkaris mullaahi `alaihi wa innahoo lafisq; wa innash Shayaateena la yoohoona ilaaa awliyaaa`ihim liyujaadilookum wa in ata`tumoohum innnakum lamushrikoon
📖 বাংলা অর্থ
যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে-যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ – যে জন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি (যেমন: মৃত জন্তু, পাথর বা মূর্তির নামে যবেহকৃত পশু)।
  • لَفِسْقٌ – নিশ্চয়ই তা গুনাহ ও আল্লাহর আদেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া।
  • لَيُوحُونَ – নিশ্চয়ই (শয়তানরা) কুমন্ত্রণা দেয় / প্ররোচনা দেয়।
  • أَوْلِيَائِهِمْ – তাদের (শয়তানদের) বন্ধু-অনুসারীদের (মুশরিকদের)।
  • لِيُجَادِلُوكُمْ – যাতে তারা তোমাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করে।

তাফসীর:

হে মুসলিমগণ! তোমরা সেই পশু খেয়ো না যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি। অর্থাৎ, যে পশু মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, অথবা যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে (মূর্তি, দেব-দেবী, জিন ইত্যাদির নামে) যবেহ করা হয়েছে, অথবা যবেহ করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—এসব খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কেননা এরূপ করা আল্লাহর আদেশ অমান্য করা এবং গুনাহের কাজ।

এরপর আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের সতর্ক করে বলছেন যে, শয়তানরা তাদের মানব বন্ধুদের (মুশরিক ও কাফিরদের) মনে এমন কুমন্ত্রণা ও সন্দেহ ঢেলে দেয়, যাতে তারা তোমাদের সাথে তর্ক করতে পারে। তারা বলে থাকে: “তোমরা নিজ হাতে যবেহ করা পশু খাও, কিন্তু আল্লাহ যাকে মৃত্যু দিয়েছেন (মৃত পশু) তা খাও না কেন? আল্লাহ যা হত্যা করেছেন তা কি হালাল নয়?”—এই ধরনের যুক্তি দিয়ে তারা তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চায়।

হে মুমিনগণ! যদি তোমরা তাদের এই কুমন্ত্রণার শিকার হয়ে মৃত পশু বা আল্লাহর নাম ছাড়া যবেহকৃত পশু খাওয়াকে বৈধ মনে করো, তাহলে তোমরাও তাদের মতো মুশরিক হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল ঘোষণা করা বা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করা—এটাই শিরকের অন্তর্ভুক্ত।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর নামেই যবেহ: প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর নামে যবেহ করা এবং আল্লাহর নাম ছাড়া যবেহকৃত পশু থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। এটি তাওহীদের একটি অংশ।
  2. শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্কতা: শয়তান সবসময় মানুষের মনে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। মুমিনের উচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, শয়তানের প্ররোচনায় কান না দেওয়া।
  3. হালাল-হারামের ব্যাপারে সতর্কতা: ইসলামে হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কেউ নিজের ইচ্ছা বা কারো কথায় আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের বিপরীত সিদ্ধান্ত নেয়, সে শিরকের দিকে ধাবিত হয়।
  4. তর্ক-বিতর্কে ধৈর্য: কাফির-মুশরিকরা যখন ইসলামের বিধান নিয়ে তর্ক করে, তখন মুমিনের উচিত দৃঢ়তার সাথে সত্যের উপর অটল থাকা এবং কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করা।


📜 আয়াত 119-123 — আল-আনআম

119وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ
কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, অথচ আল্লাহ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন।
120وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُونَ
তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে।
121وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ ۗ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَىٰ أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ۖ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে-যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে।
122أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا ۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে-সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে।
123وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا ۖ وَمَا يَمْكُرُونَ إِلَّا بِأَنفُسِهِمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি-যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
121আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 121

সূরা আল-আনআম আয়াত 121 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে…

সূরা আয়াত 121/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 119–123. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না