Innal lazeenat takhazul `ijla-sa yanaaluhum ghadabum mir Rabbihim wa zillatun fil hayaatid dunyaa; wa kazaalika najzil muftareen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
बेशक जिन लोगों ने बछड़े को (अपना माबूद) बना लिया उन पर अनक़रीब ही उनके परवरदिगार की तरफ से अज़ाब नाज़िल होगा और दुनियावी ज़िन्दगी में ज़िल्लत (उसके अलावा) और हम बोहतान बॉधने वालों की ऐसी ही सज़ा करते हैं
অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اتَّخَذُوا الْعِجْلَ — গো-বৎস (বাছুর)কে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল।
سَيَنَالُهُمْ — তাদেরকে অবশ্যই পৌঁছাবে/আচ্ছন্ন করবে।
غَضَبٌ — ক্রোধ/আক্রোশ (আল্লাহর পক্ষ থেকে)।
ذِلَّةٌ — লাঞ্ছনা/অপমান।
الْمُفْتَرِينَ — মিথ্যা রটনাকারী, আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দানকারী।
তাফসীর:
যারা গো-বৎসকে উপাস্য বানিয়ে আল্লাহর পরিবর্তে তার ইবাদত করেছিল, আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করছেন যে, তাদের ওপর অবশ্যই তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড ক্রোধ নেমে আসবে এবং দুনিয়ার এই জীবনেই তাদের লাঞ্ছনা ও অপমান অপেক্ষা করছে। এই শাস্তি তাদের কুফরি ও আল্লাহর সাথে বেয়াদবির কারণে। ইতিহাসে দেখা যায়, তাদের ওপর তওবার শর্ত হিসেবে আত্মহত্যার আদেশ জারি হয়েছিল এবং তাদেরকে নিজ নিজ ঘর-বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যেতে হয়েছিল—যা ছিল দুনিয়ার জীবনে এক চরম লাঞ্ছনা ও অপমানের প্রতীক।
আর এই শাস্তির নিয়ম কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল না; বরং আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন—যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে, তাঁর নামে মনগড়া কথা বলে, তাঁর দ্বীনে নতুন নতুন বিষয় (বিদ‘আত) প্রবর্তন করে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই একই ধরনের অপমান ও লাঞ্ছনার বিধান প্রযোজ্য। প্রতিটি মিথ্যাবাদী ও বিদ‘আতী ব্যক্তি দুনিয়াতেই অপমানিত হয়, যদিও তা দেরিতে হলেও ঘটে থাকে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরকের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ—দুনিয়াতেই অপমান ও লাঞ্ছনা, আর আখিরাতে কঠিন শাস্তি। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত শিরক ও কুফরি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা, তাঁর দ্বীনে মনগড়া কথা চালিয়ে দেওয়া—এমনকি বিদ‘আত প্রবর্তন করাও মারাত্মক অপরাধ। এর শাস্তি দুনিয়াতেই নেমে আসে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকেই দ্বীনকে বুঝা এবং যেকোনো প্রকার মনগড়া আমল ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর শাস্তি কখনো বিলম্বিত হলেও অবশ্যম্ভাবী। তাই আমরা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ দেখে অহংকারী না হই এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করার সাহস না করি।
তওবার দরজা সবসময় খোলা—যদিও গো-বৎস পূজারীরা ভুল করেছিল, তবুও তাদের তওবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমাদেরও উচিত ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং নিজেকে সংশোধন করা।
তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায়, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ। তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে জালিমদের সারিতে গন্য করো না।
অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।
তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন। আর যা কিছু তাতে লেখা ছিল, তা ছিল সে সমস্ত লোকের জন্য হেদায়েত ও রহমত যারা নিজেদের পরওয়ারদেগারকে ভয় করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।