Allazeenat takhazoo deenahu lahwanw wa la`i-banw wa gharrat humul hayaatud dunyaa; fal Yawma nnannsaahum kamaa nasoo liqaaa`a Yawmihim haazaa wa maa kaanoo bi aayaatinaa yajhadoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिन लोगों ने अपने दीन को खेल तमाशा बना लिया था और दुनिया की (चन्द रोज़ा) ज़िन्दगी ने उनको फरेब दिया था तो हम भी आज (क़यामत में) उन्हें (क़सदन) भूल जाएगें
🎧 শুনুন
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَهْوًا — খেল-তামাশা, অযথা ক্রিয়াকলাপ।
لَعِبًا — কৌতুক, খেলাধুলা।
غَرَّتْهُمُ — তাদেরকে প্রতারিত করেছে, ধোঁকায় ফেলেছে।
نَنسَاهُمْ — আমরা তাদেরকে ভুলে যাব (অর্থাৎ রহমত থেকে বঞ্চিত করে শাস্তিতে ছেড়ে দেব)।
يَجْحَدُونَ — অস্বীকার করে, অগ্রাহ্য করে।
তাফসীর:
যারা নিজেদের দ্বীনকে খেল-তামাশা ও কৌতুকের বস্তুতে পরিণত করেছিল, তারা আল্লাহর নির্দেশ ও বিধানকে গুরুত্ব দেয়নি বরং উপহাস করেছিল। জাহিলিয়াতের যুগে তারা যেমন বাহিরা, সায়েবা ইত্যাদি প্রথা চালু করে দ্বীনকে বিকৃত করেছিল এবং কাবা ঘরের তাওয়াফের সময় শিস ও হাততালি দিত—এসবই ছিল তাদের ধর্মীয় খেল-তামাশা। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন তার সৌন্দর্য ও ভোগ-বিলাসে তাদেরকে প্রতারিত করেছিল, ফলে তারা আখিরাতের জন্য কোনো প্রস্তুতি নেয়নি।
আজ কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদেরকে রহমত থেকে বঞ্চিত করে জাহান্নামের শাস্তিতে ছেড়ে দেবেন—যেভাবে তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের এই দিনকে ভুলে গিয়েছিল এবং তার জন্য কোনো আমল করেনি। আর তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে জেনে-বুঝেও অস্বীকার করত, যদিও তাদের অন্তর জানত এগুলো সত্য। তাই তাদের এই জঘন্য অপরাধের কারণে তারা আজ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত ও লাঞ্ছিত হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দ্বীনকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। দ্বীনের সাথে খেল-তামাশা করা বা তাকে উপহাস করা ধ্বংসের কারণ।
দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সম্পদ মানুষকে আখিরাতের চিরন্তন সাফল্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাই দুনিয়ার মোহে অন্ধ না হয়ে আখিরাতের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করা কুফরি। বরং সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং তা মেনে চলা ঈমানের দাবি।
আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছু নেই। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলে যায় এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করে, আল্লাহও তাকে ভুলে যান—অর্থাৎ তার প্রতি রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।
এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।
দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন,
তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।
তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।