হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदारों कुफ्फार में से जो लोग तुम्हारे आस पास के है उन से लड़ों और (इस तरह लड़ना) चाहिए कि वह लोग तुम में करारापन महसूस करें और जान रखो कि बेशुबहा ख़ुदा परहेज़गारों के साथ है
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَلُونَكُم – তোমাদের নিকটবর্তী/সন্নিহিত।
غِلْظَةً – কঠোরতা, শক্তিমত্তা, কঠিন আচরণ।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছ এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী আমল করছ! তোমরা প্রথমে সেই কাফিরদের সাথে যুদ্ধ কর যারা তোমাদের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। কেননা নিকটবর্তী শত্রুর বিপদ দূরবর্তী শত্রুর চেয়ে বেশি ভয়ংকর এবং তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করে। ইসলামের নিরাপত্তার জন্য প্রথমে ঘর পরিষ্কার করা জরুরি। এরপর ধাপে ধাপে দূরবর্তী শত্রুদের মোকাবিলা করতে হবে।
আর তোমাদের মধ্যে যেন কাফিররা কঠোরতা ও শক্তিমত্তা দেখতে পায়। অর্থাৎ, তোমরা দুর্বলতা বা নরমভাব দেখাবে না; বরং তাদের ভয় দেখানোর জন্য শক্ত অবস্থান গ্রহণ করবে, যাতে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো কুচক্রান্ত করার সাহস না পায়। এটি তাদের মনোবল ভাঙার এবং ইসলামের শত্রুদের প্রতিরোধের একটি কৌশল।
আর তোমরা নিশ্চিত জানো যে, আল্লাহ তাআলা সেই মুত্তাকীদের সাথে আছেন, যারা তাঁর আদেশ পালন করে এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহর সাথে থাকার অর্থ হলো—তিনি তাদের সাহায্য করেন, তাদের বিজয় দান করেন এবং তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন। সুতরাং তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন তোমাদের সাথে থাকবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও আত্মরক্ষা ও শত্রুর মোকাবিলার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছে, তবে তা শুধু সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়সঙ্গত কারণে।
মুমিনের জীবনে শৃঙ্খলা ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ—প্রথমে নিকটবর্তী সমস্যা সমাধান করা, তারপর দূরবর্তী বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া।
শত্রুর কাছে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি বিজ্ঞ কৌশল যা যুদ্ধ এড়াতেও সাহায্য করে এবং শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক।
তাকওয়া (আল্লাহভীতি) হল বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর বিধান মেনে চলে, আল্লাহ তাকে তার প্রয়োজনের সময় সাহায্য করবেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় দান করবেন।
এই আয়াত মুমিনদের মধ্যে সাহস, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর উপর ভরসা সৃষ্টি করে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে সুসংগঠিত করে এবং ইসলামী উম্মাহকে শক্তিশালী করে।
আর তারা অল্প-বিস্তর যা কিছু ব্যয় করে, যত প্রান্তর তারা অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লেখা হয়, যেন আল্লাহ তাদের কৃতকর্মসমূহের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।
আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।