আল-বাইয়্যিনাহ · 4/8
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাইয়্যিনাহ
وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ ۝٤
Wa maa tafarraqal lazeena ootul kitaaba il-la mim b`adi ma jaa-at humul baiyyinah
📖 বাংলা অর্থ
অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • তাফাররাক্ব (তফরিক/বিভক্ত হওয়া): অর্থাৎ মতভেদ করা, দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া।
  • আহলুল কিতাব: যাদেরকে আসমানী কিতাব (তাওরাত ও ইঞ্জিল) দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ ইয়াহুদী ও নাসারা।
  • বাইয়্যিনাহ: সুস্পষ্ট প্রমাণ, স্পষ্ট দলীল। এখানে উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আগমন এবং তার সত্যতা প্রমাণকারী স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, আহলুল কিতাবদের মধ্যে বিভক্তি ও মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে শুধুমাত্র সেই সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবির্ভাবের পর। এর আগে তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল। তাদের কিতাবে শেষ নবী (ﷺ)-এর আগমনের সুসংবাদ এবং তার পরিচয় স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। তারা নিজেরাও জানত যে, এই নবী আসবেন এবং তারা তার অনুসরণ করবে। কিন্তু যখন সেই প্রতিশ্রুত নবী (ﷺ) প্রকৃতপক্ষে প্রেরিত হলেন, তখন তাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিল।

কেন এমন হলো? কারণ, নবী (ﷺ) যখন আরব জাতির মধ্য থেকে আগমন করলেন, তখন তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ জাগ্রত হলো। তারা ভাবল, আমাদের জাতির মধ্যে থেকে তো নবী আসার কথা ছিল, কিন্তু তিনি অন্য জাতির মধ্য থেকে এসেছেন! ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমান আনল, আর কেউ কেউ জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করে কুফরীর উপর অটল রইল। অথচ তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, কোনো সন্দেহ ছিল না।

এখানে আল্লাহ তাআলা মূলত তাদের সেই আচরণেরই সমালোচনা করেছেন। সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন মানুষের উচিত তা মেনে নেওয়া। কিন্তু হিংসা, অহংকার এবং পার্থিব স্বার্থের কারণে তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করল। এটি তাদের জন্য একটি বড় শিক্ষণীয় বিষয়।

প্রিয় পাঠক! এই আয়াত থেকে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সত্য যত স্পষ্টই হোক না কেন, মানুষের অন্তরে যদি হিংসা বা অহংকার থাকে, তবে সে সত্যকে মেনে নিতে পারে না। তাই আমাদের উচিত সর্বদা অন্তরকে পরিষ্কার রাখা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা এবং সত্যকে যেখান থেকেই আসুক না কেন, তা বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যকে চেনার এবং মেনে নেওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।



📜 আয়াত 2-6 — সূরা আল-বাইয়্যিনাহ

2رَسُولٌ مِّنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا مُّطَهَّرَةً
অর্থাৎ আল্লাহর একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা,
3فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ
যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু।
4وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ
অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।
5وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।
6إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ أُولَٰئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ
আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।
আল-বাইয়্যিনাহকুরআন সূচী
8আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
4আয়াত

অনুবাদ — আল-বাইয়্যিনাহ 4

সূরা আল-বাইয়্যিনাহ আয়াত 4 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে…

সূরা আয়াত 4/8 — সূরা আল-বাইয়্যিনাহ البينة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাইয়্যিনাহ শুনুন, সূরা আল-বাইয়্যিনাহ অনুবাদ, সূরা আল-বাইয়্যিনাহ mp3, সূরা আল-বাইয়্যিনাহ pdf. আয়াত 2–6. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না