অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- خَزَائِنُ اللهِ — আল্লাহর ভান্ডার বা ধন-ভান্ডার।
- الْغَيْبَ — অদৃশ্য বিষয়, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে।
- تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ — যাদেরকে তোমাদের চোখ তুচ্ছজ্ঞান করে, ঘৃণার চোখে দেখে।
- لَن يُؤْتِيَهُمُ اللهُ خَيْرًا — আল্লাহ তাদেরকে কোনো কল্যাণ দেবেন না।
- الظَّالِمِينَ — অত্যাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী।
তাফসির:
হযরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। সম্প্রদায়ের নেতারা যখন দরিদ্র ও দুর্বল মুমিনদের দেখে অবজ্ঞা করেছিল এবং নূহ (আ.)-কে বলেছিল যে, এই নীচু শ্রেণীর লোকদেরকে দূর করে দাও, তখন তিনি তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আমি তোমাদের কাছে এমন কোনো দাবি করছি না যা আমার অবস্থানকে উঁচু করে দেখায়। তিনি বলেন: “আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডার রয়েছে, যাতে আমি তোমাদের ইচ্ছামতো দিতে পারি। আমি অদৃশ্যের জ্ঞানও রাখি না যে, তোমাদের ভবিষ্যৎ বা লুকানো বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে দেব। আমি এও বলি না যে, আমি ফেরেশতা — বরং আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ। আর যাদেরকে তোমরা তুচ্ছজ্ঞান করছ, সেই দরিদ্র মুমিনদের সম্পর্কে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কোনো কল্যাণ দেবেন না। কেননা, তাদের অন্তরে কী আছে, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি তাদের নিয়ত ও বিশ্বাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। যদি আমি তাদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করি, তবে আমি অবশ্যই অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হব।”
নূহ (আ.)-এর এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি তাঁর নবুওয়তের মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তিনি কখনো নিজেকে এমন অবস্থানে রাখেননি যা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। তিনি দরিদ্র মুমিনদের প্রতি কোনো প্রকার ঘৃণা বা অবজ্ঞা প্রকাশ করেননি, বরং তাদের সম্মান রক্ষা করেছেন এবং তাদের অন্তরের অবস্থা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- নবী-রাসূলগণও মানুষ ছিলেন এবং তাঁরা কোনো গায়েবি জ্ঞান বা ঐশ্বরিক ক্ষমতার দাবি করতেন না। সুতরাং আমাদের উচিত নবী-রাসূলদের প্রতি সঠিক বিশ্বাস রাখা এবং তাঁদের মানবীয় মর্যাদাকে সম্মান করা।
- মানুষের মূল্যায়ন করা উচিত তার ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তিতে, সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে নয়। দরিদ্র মুমিনদের প্রতি অবজ্ঞা করা ইসলামসম্মত নয়।
- কারো অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কথা বলা বা রায় দেওয়া উচিত নয়। অন্তরের গোপন বিষয় একমাত্র আল্লাহই জানেন।
- অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। নিজের অবস্থানকে সঠিক রাখতে হলে সত্য কথা বলতে হবে এবং অন্যায়কে সমর্থন করা যাবে না।
- এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, দাওয়াতের কাজে ধৈর্য ও সহনশীলতা অপরিহার্য। যারা দুর্বল বা দরিদ্র, তাদেরকে কখনো দাওয়াত থেকে বাদ দেওয়া যাবে না, বরং তাদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে হবে।
📜 আয়াত 29-33 — হুদ
অনুবাদ — হুদ 31
সূরা হুদ আয়াত 31 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার…সূরা আয়াত 31/123 — হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: হুদ শুনুন, হুদ অনুবাদ, হুদ mp3, হুদ pdf. আয়াত 29–33. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








