হুদ · 32/123
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা হুদ
قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ۝٣٢
Qaaloo yaa Noohu qad jaadaltanaa fa aksarta jidaalanaa faatinaa bimaa ta`idunaaa in kunta minas saadiqeen
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • জাদালতানা (جادلتنا) — তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ।
  • আকসারতা জিদালানা (أكثرت جدالنا) — তুমি আমাদের সাথে অতিরিক্ত বিতর্ক ও তর্ক-বিতর্ক করেছ।
  • ফা'তিনা বিমা তা'ইদুনা (فأتنا بما تعدنا) — তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা আমাদের সামনে নিয়ে আসো।
  • ইন কুনতা মিনাস সাদিকীন (إن كنت من الصادقين) — যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

কাফির সম্প্রদায় যখন নবী নূহ (আঃ)-এর দীর্ঘকালীন দাওয়াত ও উপদেশে বিরক্ত হয়ে গেল, এবং তারা দেখল যে তিনি তাদেরকে তাওহিদের দিকে ডাকছেন, মূর্তিপূজা থেকে বিরত থাকতে বলছেন, কিন্তু তারা তাঁর কথা মানতে রাজি নয়, তখন তারা অহংকার ও হঠকারিতার সাথে বলল: "হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে অনেক বিতর্ক করেছ, তুমি আমাদের সাথে অতিরিক্ত তর্ক-বিতর্ক ও বিবাদে লিপ্ত হয়েছ। তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা যদি সত্য হয় এবং তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে এখনই আমাদের উপর সেই শাস্তি নিয়ে আসো।"

তারা এই কথা বলেছিল শুধু উপহাস ও ঠাট্টা-বিদ্রূপের জন্য, প্রকৃত সত্য জানার আগ্রহ থেকে নয়। তারা মনে করত নূহ (আঃ) মিথ্যা বলছেন এবং তাঁর হুমকি কখনো বাস্তবায়িত হবে না। অথচ তারা জানত না যে আল্লাহর শাস্তি অবশ্যই আসবে, কিন্তু তা তাদের নির্ধারিত সময়েই আসবে, কারো তাড়াহুড়ায় তা ত্বরান্বিত হবে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. দাওয়াতের পথে বাধা ও উপহাস আসবেই — নবী-রাসূলগণও এর সম্মুখীন হয়েছেন। তাই সত্যের পথে দাওয়াত দেওয়ার সময় মানুষের উপহাস ও বিদ্রূপে বিচলিত হওয়া উচিত নয়।
  2. আখিরাতে বিশ্বাস ও আল্লাহর শাস্তির ভয় — কাফিররা শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর বিধান নির্ধারিত সময়েই কার্যকর হয়। মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় ধৈর্য ধারণ করা।
  3. ধৈর্য ও দৃঢ়তা — নবী নূহ (আঃ) ৯৫০ বছর ধরে ধৈর্যের সাথে দাওয়াত দিয়েছেন এবং কাফিরদের উস্কানিতে বিচলিত হননি। আমাদের জীবনেও সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা অপরিহার্য।
  4. আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্কতা — যে সম্প্রদায় নবীদের হুমকিকে মিথ্যা বলে উপহাস করে, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করা।
  5. দাওয়াতের পদ্ধতি — নবী নূহ (আঃ) বিভিন্ন পদ্ধতিতে দাওয়াত দিয়েছেন, কিন্তু কাফিররা যখন সত্য গ্রহণে সম্পূর্ণ অনাগ্রহী, তখন তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তিই চূড়ান্ত সমাধান।


📜 আয়াত 30-34 — সূরা হুদ

30وَيَا قَوْمِ مَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে আল্লাহ হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?
31وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।
32قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।
33قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُم بِهِ اللَّهُ إِن شَاءَ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ
তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।
34وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدتُّ أَنْ أَنصَحَ لَكُمْ إِن كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ ۚ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।
হুদকুরআন সূচী
123আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
32আয়াত

অনুবাদ — হুদ 32

সূরা হুদ আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক…

সূরা আয়াত 32/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না