ইউসুফ · 66/111
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউসুফ
قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُ مَعَكُمْ حَتَّىٰ تُؤْتُونِ مَوْثِقًا مِّنَ اللَّهِ لَتَأْتُنَّنِي بِهِ إِلَّا أَن يُحَاطَ بِكُمْ ۖ فَلَمَّا آتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ ۝٦٦
Qaala lan ursilahoo ma`akum hattaa tu`tooni mawsiqam minal laahis lataa tunnanee biheee illaaa nay yuhaata bikum falammaaa aatawhu mawsiqahum qaalal laahu `alaa maa naqoolu Wakeel
📖 বাংলা অর্থ
বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مَوْثِقًا – দৃঢ় অঙ্গীকার, শপথ দ্বারা সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
  • أَنْ يُحَاطَ بِكُمْ – তোমাদের সবাইকে ঘিরে ফেলা হবে, অর্থাৎ তোমরা সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত ও নিঃশেষ হয়ে যাবে।
  • وَكِيلٌ – তত্ত্বাবধায়ক, সাক্ষী, রক্ষক।

তাফসীর:

হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর ছেলেদের বললেন, “আমি কখনো বিনয়ামীনকে তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে দৃঢ় অঙ্গীকার ও শপথ কর যে, তোমরা তাকে অবশ্যই আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। তবে যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, তোমাদের সবাইকে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং তোমরা সম্পূর্ণরূপে অসহায় হয়ে গেছ—অর্থাৎ তোমাদের কারো পক্ষেই তাকে রক্ষা করা বা ফিরে আসা সম্ভব নয়—তাহলে তা ভিন্ন কথা।” অর্থাৎ শুধুমাত্র চরম বাধ্যবাধকতা ও অসহায়ত্বের অবস্থা ছাড়া অন্য কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।

যখন তারা পিতাকে এ বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ও আল্লাহর নামে শপথ প্রদান করল, তখন ইয়াকুব (আঃ) বললেন, “আমরা যে কথার উপর অঙ্গীকারাবদ্ধ হচ্ছি, আল্লাহই এর সাক্ষী ও তত্ত্বাবধায়ক। তিনি আমাদের কথা শুনছেন এবং আমাদের অঙ্গীকার সম্পর্কে অবগত আছেন।” এর মাধ্যমে তিনি তাদের কাছ থেকে পূর্ণ আশ্বাস নিলেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করলেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পালন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অঙ্গীকার গ্রহণ করা এবং তা পূরণে বদ্ধপরিকর হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
  2. সন্তানদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে পিতা-মাতার উদ্বেগ স্বাভাবিক এবং প্রশংসনীয়। ইয়াকুব (আঃ) এর কঠোর শর্ত ছিল সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।
  3. আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। মুমিনের উচিত আল্লাহর নামে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং তা ভঙ্গ করা থেকে দূরে থাকা।
  4. যেকোনো কাজে আল্লাহকে সাক্ষী ও তত্ত্বাবধায়ক বানানো আস্থা ও ভরসার চূড়ান্ত প্রকাশ। ইয়াকুব (আঃ) এর এই দোয়া ও তাওয়াক্কুল আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।
  5. কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর সাহায্য কামনা করা মুমিনের কর্তব্য। বিপদ-আপদে আল্লাহই একমাত্র রক্ষাকর্তা।


📜 আয়াত 64-68 — ইউসুফ

64قَالَ هَلْ آمَنُكُمْ عَلَيْهِ إِلَّا كَمَا أَمِنتُكُمْ عَلَىٰ أَخِيهِ مِن قَبْلُ ۖ فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
বললেন, আমি তার সম্পর্কে তোমাদেরকে কি সেরূপ বিশ্বাস করব, যেমন ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে বিশ্বাস করেছিলাম? অতএব আল্লাহ উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু।
65وَلَمَّا فَتَحُوا مَتَاعَهُمْ وَجَدُوا بِضَاعَتَهُمْ رُدَّتْ إِلَيْهِمْ ۖ قَالُوا يَا أَبَانَا مَا نَبْغِي ۖ هَٰذِهِ بِضَاعَتُنَا رُدَّتْ إِلَيْنَا ۖ وَنَمِيرُ أَهْلَنَا وَنَحْفَظُ أَخَانَا وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيرٍ ۖ ذَٰلِكَ كَيْلٌ يَسِيرٌ
এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ।
66قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُ مَعَكُمْ حَتَّىٰ تُؤْتُونِ مَوْثِقًا مِّنَ اللَّهِ لَتَأْتُنَّنِي بِهِ إِلَّا أَن يُحَاطَ بِكُمْ ۖ فَلَمَّا آتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ
বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।
67وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِن بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُّتَفَرِّقَةٍ ۖ وَمَا أُغْنِي عَنكُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ
ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।
68وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِي عَنْهُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا ۚ وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।
ইউসুফকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
66আয়াত

অনুবাদ — ইউসুফ 66

সূরা ইউসুফ আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে…

সূরা আয়াত 66/111 — ইউসুফ يوسف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউসুফ শুনুন, ইউসুফ অনুবাদ, ইউসুফ mp3, ইউসুফ pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না