ইব্রাহীম · 11/52
অনুবাদ উচ্চারণ — ইব্রাহীম
قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِن نَّحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۖ وَمَا كَانَ لَنَا أَن نَّأْتِيَكُم بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ۝١١
Qaalat lahum Rusuluhum in nahnu illaa basharum mislukum wa laakinnal laaha yamunnu `alaa mai yashaaa`u min `ibaadihee wa maa kaana lanaaa an naatiyakum bisul taanin illaa bi iznil laah; wa `alal laahi falyatawakkalil mu`minonn
📖 বাংলা অর্থ
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَمُنُّ — অনুগ্রহ করা, বিশেষ অনুগ্রহ দান করা।
  • سُلْطَانٍ — প্রমাণ, মু'জিযা, স্পষ্ট দলিল।
  • فَلْيَتَوَكَّلِ — নির্ভর করা, ভরসা করা (এখানে আদেশ অর্থে)।

তাফসীর:

যখন কাফির সম্প্রদায় তাদের নবীদেরকে বলল, “তোমরা তো আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ, আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব কী?” তখন তাদের নবীরা জবাবে বললেন: “হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই তোমাদের মতোই মানুষ। আমরা এ কথা অস্বীকার করি না যে, আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে মানবিক দিক দিয়ে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সব বিষয়ে তোমাদের সমান। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন এবং তাকে রিসালাতের জন্য মনোনীত করেন। এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও পছন্দের বিষয়, আমাদের নিজস্ব কোনো যোগ্যতা বা ক্ষমতার ফল নয়।

আর তোমরা আমাদের কাছে যে মু'জিযা বা প্রমাণ চাচ্ছ, তা আমাদের নিজেদের ক্ষমতায় আনা সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি যখন চান, তখনই কেবল তা প্রকাশ করেন। সুতরাং আমরা নিজেদের থেকে কিছু করতে পারি না। আর মুমিনদের উচিত প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপরই ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। কারণ, তিনিই সবকিছুর মালিক এবং তাঁর ইচ্ছাতেই সব ঘটে।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. নবী-রাসূলগণও মানুষ ছিলেন — এটি তাদের মর্যাদা কমায় না, বরং তাদের আদর্শ অনুসরণ করা আমাদের জন্য সহজ করে দেয়। কারণ, তারা আমাদের মতোই মানুষ হয়েও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছেন।
  2. নবুওয়াত বা রিসালাত আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ — এটি কারো চেষ্টা বা যোগ্যতার ফল নয়, বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে এ মর্যাদা দান করেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর এই অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তাঁর মনোনীত রাসূলদের অনুসরণ করা।
  3. মু'জিযা বা অলৌকিক ঘটনা আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয় — কোনো নবী নিজের ক্ষমতায় তা ঘটাতে পারেন না। এটি আমাদের শেখায় যে, সবকিছু আল্লাহর হাতে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কিছুই ঘটে না।
  4. মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা)। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে — সফলতা, ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ — সব অবস্থায় আমাদের আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হবে এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
  5. দাওয়াতের পথে বাধা-বিপত্তি এলেও হতাশ হওয়া যাবে না। নবীরা যেমন ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করে দাওয়াত চালিয়ে গেছেন, আমরাও তেমনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সত্যের পথে অবিচল থাকব।


📜 আয়াত 9-13 — ইব্রাহীম

9أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ ۛ وَالَّذِينَ مِن بَعْدِهِمْ ۛ لَا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا اللَّهُ ۚ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَرَدُّوا أَيْدِيَهُمْ فِي أَفْوَاهِهِمْ وَقَالُوا إِنَّا كَفَرْنَا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ وَإِنَّا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَنَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
10۞ قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ قَالُوا إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।
11قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِن نَّحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۖ وَمَا كَانَ لَنَا أَن نَّأْتِيَكُم بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
12وَمَا لَنَا أَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ وَقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَا ۚ وَلَنَصْبِرَنَّ عَلَىٰ مَا آذَيْتُمُونَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ
আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
13وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُم مِّنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا ۖ فَأَوْحَىٰ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ الظَّالِمِينَ
কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব।
ইব্রাহীমকুরআন সূচী
52আয়াত
মাক্কীRevelation
11আয়াত

অনুবাদ — ইব্রাহীম 11

সূরা ইব্রাহীম আয়াত 11 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ…

সূরা আয়াত 11/52 — ইব্রাহীম إبراهيم (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইব্রাহীম শুনুন, ইব্রাহীম অনুবাদ, ইব্রাহীম mp3, ইব্রাহীম pdf. আয়াত 9–13. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না