Qaalat lahum Rusuluhum in nahnu illaa basharum mislukum wa laakinnal laaha yamunnu `alaa mai yashaaa`u min `ibaadihee wa maa kaana lanaaa an naatiyakum bisul taanin illaa bi iznil laah; wa `alal laahi falyatawakkalil mu`minonn
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
उनके पैग़म्बरों ने उनके जवाब में कहा कि इसमें शक़ नहीं कि हम भी तुम्हारे ही से आदमी हैं मगर ख़ुदा अपने बन्दों में जिस पर चाहता है अपना फज़ल (व करम) करता है (और) रिसालत अता करता है और हमारे एख्तियार मे ये बात नही कि बे हुक्मे ख़ुदा (तुम्हारी फरमाइश के मुवाफिक़) हम कोई मौजिज़ा तुम्हारे सामने ला सकें और ख़ुदा ही पर सब ईमानदारों को भरोसा रखना चाहिए
فَلْيَتَوَكَّلِ — নির্ভর করা, ভরসা করা (এখানে আদেশ অর্থে)।
তাফসীর:
যখন কাফির সম্প্রদায় তাদের নবীদেরকে বলল, “তোমরা তো আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ, আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব কী?” তখন তাদের নবীরা জবাবে বললেন: “হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই তোমাদের মতোই মানুষ। আমরা এ কথা অস্বীকার করি না যে, আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে মানবিক দিক দিয়ে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সব বিষয়ে তোমাদের সমান। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন এবং তাকে রিসালাতের জন্য মনোনীত করেন। এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও পছন্দের বিষয়, আমাদের নিজস্ব কোনো যোগ্যতা বা ক্ষমতার ফল নয়।
আর তোমরা আমাদের কাছে যে মু'জিযা বা প্রমাণ চাচ্ছ, তা আমাদের নিজেদের ক্ষমতায় আনা সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি যখন চান, তখনই কেবল তা প্রকাশ করেন। সুতরাং আমরা নিজেদের থেকে কিছু করতে পারি না। আর মুমিনদের উচিত প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপরই ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। কারণ, তিনিই সবকিছুর মালিক এবং তাঁর ইচ্ছাতেই সব ঘটে।”
শিক্ষা ও উপদেশ:
নবী-রাসূলগণও মানুষ ছিলেন — এটি তাদের মর্যাদা কমায় না, বরং তাদের আদর্শ অনুসরণ করা আমাদের জন্য সহজ করে দেয়। কারণ, তারা আমাদের মতোই মানুষ হয়েও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছেন।
নবুওয়াত বা রিসালাত আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ — এটি কারো চেষ্টা বা যোগ্যতার ফল নয়, বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে এ মর্যাদা দান করেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর এই অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তাঁর মনোনীত রাসূলদের অনুসরণ করা।
মু'জিযা বা অলৌকিক ঘটনা আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয় — কোনো নবী নিজের ক্ষমতায় তা ঘটাতে পারেন না। এটি আমাদের শেখায় যে, সবকিছু আল্লাহর হাতে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কিছুই ঘটে না।
মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা)। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে — সফলতা, ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ — সব অবস্থায় আমাদের আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হবে এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
দাওয়াতের পথে বাধা-বিপত্তি এলেও হতাশ হওয়া যাবে না। নবীরা যেমন ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করে দাওয়াত চালিয়ে গেছেন, আমরাও তেমনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সত্যের পথে অবিচল থাকব।
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।