Wa maa lanaa allaa natawakkala `alal laahi wa qad hadaanaa subulanaa; wa lanasbiranna `alaa maaa aazaitumoonaa; wa `alal laahi falyatawakkalil mutawakkiloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमें (आख़िर) क्या है कि हम उस पर भरोसा न करें हालॉकि हमे (निजात की) आसान राहें दिखाई और जो तूने अज़ियतें हमें पहुँचाइ (उन पर हमने सब्र किया और आइन्दा भी सब्र करेगें और तवक्कल भरोसा करने वालो को ख़ुदा ही पर तवक्कल करना चाहिए
আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
نَتَوَكَّلَ – নির্ভর করা, ভরসা করা।
هَدَانَا سُبُلَنَا – তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন, অর্থাৎ সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।
آذَيْتُمُونَا – তোমরা আমাদের কষ্ট দিয়েছ, নির্যাতন করেছ।
الْمُتَوَكِّلُونَ – যারা আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহর রাসূলগণ তাদের সম্প্রদায়কে বলছেন: আমাদের কী এমন অজুহাত থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করব না? অথচ তিনিই আমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন—যে পথে আমাদের জন্য নাজাত ও কল্যাণ রয়েছে। তিনি আমাদেরকে এমন সব পথ ও পদ্ধতি শিখিয়েছেন যা আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করবে এবং জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। তাই এই মহান অনুগ্রহের পর কীভাবে আমরা তাঁর ওপর নির্ভরশীল হব না?
আর তোমরা আমাদেরকে যে কষ্ট দিচ্ছ—মৌখিক গালিগালাজ, উপহাস, শারীরিক নির্যাতন বা আমাদের সম্মানহানির চেষ্টা—তা আমরা অবশ্যই ধৈর্যের সাথে সহ্য করব। আমরা তোমাদের জবাবে ধৈর্যই অবলম্বন করব, কারণ আমরা জানি, আল্লাহই আমাদের সাহায্যকারী। আর যারা প্রকৃত মুমিন, তাদের উচিত আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা—কারণ জয়-পরাজয়, সাহায্য ও শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় সবকিছুই তাঁর হাতে। যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তারাই প্রকৃত বিজয়ী।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর পথপ্রদর্শনই সবচেয়ে বড় নেয়ামত। যখন আল্লাহ কাউকে সঠিক পথ দেখান, তখন তার ওপর নির্ভর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সত্যের পথে চলার সময় কষ্ট-নির্যাতন আসবেই, কিন্তু মুমিনের কর্তব্য ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
আল্লাহর ওপর ভরসা করলে অন্তর শান্ত থাকে এবং বিপদ-আপদে মানুষ সাহসী হয়। যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাদের হতাশ করেন না।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের পথে দৃঢ় থাকতে হলে ধৈর্য ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর নির্ভর) একসাথে থাকা জরুরি।
মুমিনের চরিত্র হলো—অন্যায়ের জবাবে ধৈর্য, আর সাহায্যের জন্য আল্লাহর দিকে মুখ করা। এটাই সফলতার চাবিকাঠি।
তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেনঃ আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।
তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই।
আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।