আন-নাহল · 30/128
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নাহল
۞ وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۚ قَالُوا خَيْرًا ۗ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۚ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ ۝٣٠
Wa qeela lillazeenat taqaw maazaaa anzala Rabbukum; qaaloo khairaa; lillazeena absanoo fee haazihid dunyaa hasanah; wa la Daarul Aakhirati khair; wa lani`ma daarul muttaqeen
📖 বাংলা অর্থ
পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ (কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ):

  • اتَّقَوْا (ত্তাকওয়া অবলম্বনকারী): যারা আল্লাহর আদেশ পালন করেছে এবং নিষেধ থেকে বিরত থেকেছে।
  • أَحْسَنُوا (ইহসানকারী): যারা আল্লাহর ইবাদত ও সৃষ্টির সাথে সদ্ব্যবহার করেছে।
  • حَسَنَةٌ (কল্যাণ/উত্তম প্রতিদান): দুনিয়ায় সম্মান, বিজয় ও রিযিকের প্রশস্ততা।
  • دَارُ الْآخِرَةِ (আখিরাতের ঘর): জান্নাত, যা মুত্তাকীদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস।

তাফসির (বিস্তারিত ব্যাখ্যা):

মুশরিক ও কাফিরদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন?” তখন তারা মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে বলেছিল, “এসব তো পুরোনো দিনের লোকদের কল্পকাহিনী!” (সূরা নাহল: ২৪)। কিন্তু এর বিপরীতে, যারা আল্লাহকে ভয় করে চলত, তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, “তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন?” তখন তারা পরিপূর্ণ দৃঢ়তা ও আনন্দের সাথে উত্তর দিল, “তিনি নাযিল করেছেন কল্যাণ—অর্থাৎ, কুরআন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।”

এরপর আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে, যারা দুনিয়ায় ইহসান করেছে—অর্থাৎ, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করেছে, তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে এবং সৃষ্টির সাথে সৎ ও সুন্দর আচরণ করেছে—তাদের জন্য দুনিয়াতেই রয়েছে উত্তম প্রতিদান। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান, বিজয়, রিযিকের প্রশস্ততা এবং অন্তরের শান্তি। তবে এটা সাময়িক; প্রকৃত ও চিরস্থায়ী কল্যাণ হলো আখিরাতের ঘর, অর্থাৎ জান্নাত। দুনিয়ার সব নেয়ামতের তুলনায় আখিরাতের নেয়ামত অনেক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর সেই আখিরাতের ঘরই হলো মুত্তাকীদের জন্য সর্বোত্তম আবাস—যেখানে থাকবে চিরস্থায়ী সুখ, শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।


শিক্ষা ও উপদেশ (ফায়দা):

  1. মুমিনের পরিচয় হলো—সে আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু আসে, তা কল্যাণ ও হিদায়াত হিসেবে গ্রহণ করে এবং অন্যদের কাছেও তা পেশ করে।
  2. দুনিয়ার সাফল্য ও সমৃদ্ধি আল্লাহভীরু ও নেককারদের জন্য একটি পুরস্কার, তবে তা কখনো আখিরাতের পুরস্কারের সমান নয়।
  3. ইহসান (সুন্দরভাবে কাজ করা) শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার, সততা ও ন্যায়পরায়ণতাও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত।
  4. মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতই সর্বোত্তম আবাস—এতে মুমিনের অন্তরে আখিরাতমুখী চিন্তা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায়—প্রতিটি পরিস্থিতিতে সত্য ও কল্যাণের পক্ষে কথা বলা এবং মিথ্যা ও অপবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 28-32 — আন-নাহল

28الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنفُسِهِمْ ۖ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِن سُوءٍ ۚ بَلَىٰ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
ফেরেশতারা তাদের জান এমতাঅবস্থায় কবজ করে যে, তারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তখন তারা অনুগত্য প্রকাশ করবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হঁ্যা নিশ্চয় আল্লাহ সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে।
29فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۖ فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ
অতএব, জাহান্নামের দরজসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।
30۞ وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۚ قَالُوا خَيْرًا ۗ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۚ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ
পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?
31جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ ۚ كَذَٰلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ
সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা-ই রয়েছে, যা তারা চায় এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে,
32الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ ۙ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
30আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 30

সূরা আন-নাহল আয়াত 30 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ…

সূরা আয়াত 30/128 — আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাহল শুনুন, আন-নাহল অনুবাদ, আন-নাহল mp3, আন-নাহল pdf. আয়াত 28–32. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না