অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ (কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ):
- اتَّقَوْا (ত্তাকওয়া অবলম্বনকারী): যারা আল্লাহর আদেশ পালন করেছে এবং নিষেধ থেকে বিরত থেকেছে।
- أَحْسَنُوا (ইহসানকারী): যারা আল্লাহর ইবাদত ও সৃষ্টির সাথে সদ্ব্যবহার করেছে।
- حَسَنَةٌ (কল্যাণ/উত্তম প্রতিদান): দুনিয়ায় সম্মান, বিজয় ও রিযিকের প্রশস্ততা।
- دَارُ الْآخِرَةِ (আখিরাতের ঘর): জান্নাত, যা মুত্তাকীদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস।
তাফসির (বিস্তারিত ব্যাখ্যা):
মুশরিক ও কাফিরদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন?” তখন তারা মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে বলেছিল, “এসব তো পুরোনো দিনের লোকদের কল্পকাহিনী!” (সূরা নাহল: ২৪)। কিন্তু এর বিপরীতে, যারা আল্লাহকে ভয় করে চলত, তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো, “তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন?” তখন তারা পরিপূর্ণ দৃঢ়তা ও আনন্দের সাথে উত্তর দিল, “তিনি নাযিল করেছেন কল্যাণ—অর্থাৎ, কুরআন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।”
এরপর আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে, যারা দুনিয়ায় ইহসান করেছে—অর্থাৎ, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করেছে, তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে এবং সৃষ্টির সাথে সৎ ও সুন্দর আচরণ করেছে—তাদের জন্য দুনিয়াতেই রয়েছে উত্তম প্রতিদান। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান, বিজয়, রিযিকের প্রশস্ততা এবং অন্তরের শান্তি। তবে এটা সাময়িক; প্রকৃত ও চিরস্থায়ী কল্যাণ হলো আখিরাতের ঘর, অর্থাৎ জান্নাত। দুনিয়ার সব নেয়ামতের তুলনায় আখিরাতের নেয়ামত অনেক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর সেই আখিরাতের ঘরই হলো মুত্তাকীদের জন্য সর্বোত্তম আবাস—যেখানে থাকবে চিরস্থায়ী সুখ, শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।
শিক্ষা ও উপদেশ (ফায়দা):
- মুমিনের পরিচয় হলো—সে আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু আসে, তা কল্যাণ ও হিদায়াত হিসেবে গ্রহণ করে এবং অন্যদের কাছেও তা পেশ করে।
- দুনিয়ার সাফল্য ও সমৃদ্ধি আল্লাহভীরু ও নেককারদের জন্য একটি পুরস্কার, তবে তা কখনো আখিরাতের পুরস্কারের সমান নয়।
- ইহসান (সুন্দরভাবে কাজ করা) শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার, সততা ও ন্যায়পরায়ণতাও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত।
- মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতই সর্বোত্তম আবাস—এতে মুমিনের অন্তরে আখিরাতমুখী চিন্তা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।
- এই আয়াত আমাদের শেখায়—প্রতিটি পরিস্থিতিতে সত্য ও কল্যাণের পক্ষে কথা বলা এবং মিথ্যা ও অপবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
📜 আয়াত 28-32 — আন-নাহল
অনুবাদ — আন-নাহল 30
সূরা আন-নাহল আয়াত 30 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ…সূরা আয়াত 30/128 — আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাহল শুনুন, আন-নাহল অনুবাদ, আন-নাহল mp3, আন-নাহল pdf. আয়াত 28–32. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








