এমনিভাবে আমি সুস্পষ্ট আয়াত রূপে কোরআন নাযিল করেছি এবং আল্লাহ-ই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আয়াতٍ بَيِّنَاتٍ — সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ।
يَهْدِي — পথ দেখান, হিদায়াত দেন।
مَنْ يُرِيدُ — যাকে তিনি (আল্লাহ) চান।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা বলেন, যেমনিভাবে আমি কিয়ামত ও পুনরুত্থানের উপর প্রমাণাদি স্থাপন করেছি এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুক্তি-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছি, ঠিক তেমনিভাবে আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর কুরআন নাযিল করেছি। এই কুরআনের আয়াতসমূহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই পরিষ্কার এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা জটিলতা থেকে মুক্ত। এই আয়াতগুলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী, হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়।
আর আমি আরও নাযিল করেছি যে, আল্লাহ যাকে হিদায়াত করা চান তাকে তিনি হিদায়াত দান করেন। তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা সত্যের পথে পরিচালিত করেন। কেননা হিদায়াত দান করা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। তিনি ছাড়া আর কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। যারা সত্য গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং তাদেরকে সরল পথে চলার তাওফিক দান করেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কুরআনুল কারিম是人类 জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতের উৎস। এর প্রতিটি আয়াত স্পষ্ট, প্রমাণপূর্ণ এবং যুক্তিসঙ্গত।
হিদায়াত লাভ করা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অনুগ্রহ ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করা এবং সত্য গ্রহণের জন্য আন্তরিক ইচ্ছা পোষণ করা।
যে ব্যক্তি সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে, আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি মহান অনুগ্রহ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি প্রদান করেন।
কুরআনের আয়াতগুলো চিন্তা-গবেষণার আহ্বান জানায়। যে ব্যক্তি এগুলো নিয়ে চিন্তা করে, সে সত্যের সন্ধান পায় এবং তার অন্তর আলোকিত হয়।
এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে শেখায়। যেহেতু হিদায়াত আল্লাহর হাতে, তাই আমাদের উচিত সবকিছুতে তাঁর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা।
সে ধারণা করে যে, আল্লাহ কখনই ইহকালে ও পরকালে রাসূলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কিনা।
যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, সাবেয়ী, খ্রীষ্টান, অগ্নিপুজক এবং যারা মুশরেক, কেয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। সবকিছুই আল্লাহর দৃষ্টির সামনে।
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে, যা কিছু আছে ভুমন্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি পর্বতরাজি বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের উপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।