আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে এবাদতের একটি নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে পালনকর্তার দিকে আহবান করুন। নিশ্চয় আপনি সরল পথেই আছেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
इसमें शक नहीं कि इन्सान बड़ा ही नाशुक्रा है (ऐ रसूल) हमने हर उम्मत के वास्ते एक तरीक़ा मुक़र्रर कर दिया कि वह इस पर चलते हैं फिर तो उन्हें इस दीन (इस्लाम) में तुम से झगड़ा न करना चाहिए और तुम (लोगों को) अपने परवरदिगार की तरफ बुलाए जाओ
আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে এবাদতের একটি নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে পালনকর্তার দিকে আহবান করুন। নিশ্চয় আপনি সরল পথেই আছেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَنسَكًا — অর্থ: ইবাদতের বিধান, কুরবানির নিয়ম বা ধর্মীয় রীতি।
نَاسِكُوهُ — অর্থ: তারা তা পালনকারী বা আমলকারী।
يُنَازِعُنَّكَ — অর্থ: তারা আপনার সাথে বিবাদ বা ঝগড়া করবে না (অর্থাৎ, আপনি তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবেন না)।
هُدًى مُّسْتَقِيمٍ — অর্থ: সরল ও সঠিক পথ।
তাফসির:
প্রতিটি উম্মতের জন্য আমি একটি করে ইবাদতের বিধান ও ধর্মীয় রীতি নির্ধারণ করেছি, যা তারা পালন করত। প্রত্যেক নবীর যুগে তাদের জন্য আলাদা শরিয়ত ছিল, কিন্তু মূল লক্ষ্য ছিল এক — আল্লাহর একত্ব ও তাঁর ইবাদত। এখন আপনার প্রতি যে শরিয়ত ও বিধান নাজিল হয়েছে, তা-ই চূড়ান্ত সত্য। তাই হে নবী! মুশরিকরা যখন আপনার কুরবানি বা অন্যান্য ইবাদতের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল — যেমন তারা বলেছিল, “তোমরা নিজেদের জবাই করা পশু খাও, কিন্তু আল্লাহর মৃত্যু দেওয়া পশু (মৃত প্রাণী) খাও না কেন?” — তখন আপনি তাদের সাথে এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়াবেন না। কারণ তাদের এ আপত্তি ছিল শুধুই হঠকারিতা ও অজ্ঞতা। আপনার কাজ হলো তাদেরকে আপনার রবের দিকে ডাকা, তাঁর একত্ব ও ইবাদতে বিশুদ্ধভাবে আহ্বান করা। নিশ্চয়ই আপনি সোজা ও সঠিক পথে রয়েছেন — যে পথে কোনো বক্রতা নেই। এই পথই চূড়ান্ত সত্য, আর তাদের পথ ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
প্রতিটি যুগে আল্লাহ নিজ ইচ্ছামতো বিধান দিয়েছেন, কিন্তু সর্বশেষ শরিয়তই চূড়ান্ত ও রহিতকারী। তাই ইসলামের বিধানই এখন পালনীয়।
অন্য ধর্ম বা মতবাদের লোকেরা যখন ইসলামের বিধান নিয়ে আপত্তি তোলে, তখন উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াত দেওয়াই কর্তব্য।
দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হওয়া চাই আল্লাহর একত্ব ও তাঁর ইবাদতে বিশুদ্ধতা — এটাই সব নবী-রাসূলের আহ্বান ছিল।
নবী (সা.)-এর পথই সরল পথ; যে ব্যক্তি এই পথে চলে, সে কখনো বিভ্রান্ত হয় না। এটি মুমিনের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।
অন্যদের ভুল আচরণ বা যুক্তিহীন আপত্তি যেন আমাদের দাওয়াতের পথ থেকে বিচ্যুত না করে — বরং আমরা যেন লক্ষ্য স্থির রাখি।
তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।
আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে এবাদতের একটি নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে পালনকর্তার দিকে আহবান করুন। নিশ্চয় আপনি সরল পথেই আছেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।