আন-নূর · 13/64
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নূর
لَّوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ ۚ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَٰئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ ۝١٣
Law laa jaaa`oo `alaihi bi-arba`ati shuhadaaa`; fa iz lam yaatoo bishshuhadaaa`i fa ulaaa `ika `indal laahi humul kaaziboon
📖 বাংলা অর্থ
তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَوْلَا — কেন/কেন আসেনি, বা হলে ভালো হতো (অনুশোচনা ও তিরস্কারসূচক শব্দ)।
  • جَاءُوا عَلَيْهِ — তারা এর উপর (অভিযোগের সাক্ষ্য) উপস্থিত করত।
  • بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ — চারজন সাক্ষী (যারা ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য)।
  • فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا — অতঃপর যখন তারা আনেনি।
  • فَأُولَئِكَ — তাহলে তারাই (অভিযোগকারীরা)।
  • عِندَ اللَّهِ — আল্লাহর বিধান ও দৃষ্টিতে।
  • هُمُ الْكَاذِبُونَ — তারাই সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতটি সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে, যখন মুনাফিকরা উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে একটি ভয়ানক অপবাদ রটিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা এখানে সেই অপবাদদাতাদের উদ্দেশ্য করে বলছেন: কেন তারা এই গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের জন্য চারজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী উপস্থিত করেনি? অথচ শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কোনো নারী বা পুরুষের চরিত্রে অপবাদ দেওয়ার জন্য চারজন সাক্ষী প্রমাণ হিসেবে জরুরি। যখন তারা এই সাক্ষী আনতে পারেনি — এবং কখনোই আনতে পারবে না, কারণ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল — তখন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী। এমনকি যদি তারা নিজেদের মনে মনে নিজেদের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাসও করত, তবুও আল্লাহর দৃষ্টিতে তারা মিথ্যাবাদী, কারণ আল্লাহ তাদেরকে সাক্ষী ছাড়া এমন কথা বলতে নিষেধ করেছেন। সাক্ষী প্রমাণের এই শর্তটি একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে মানুষের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষা পায় এবং কেউ সহজে অন্যের চরিত্রে আঘাত হানতে না পারে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম একটি ন্যায়বিচার ও প্রমাণভিত্তিক ধর্ম। কোনো অভিযোগই প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে সম্মান ও চরিত্র সম্পর্কিত বিষয়ে।
  2. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়। মিথ্যা অভিযোগকারী আল্লাহর দৃষ্টিতে মিথ্যাবাদী এবং এর জন্য কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।
  3. ইসলাম মানুষের সম্মান ও মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। একজন মুসলমানের জন্য অন্যের সম্মান রক্ষা করা নিজের সম্মান রক্ষার মতোই জরুরি।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্য প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর উপর বর্তায়, অভিযুক্তের উপর নয়। এটি একটি ন্যায়সংগত নীতি যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
  5. আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী ও পবিত্র পরিবারের সম্মান রক্ষা করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই ঘটনার মাধ্যমে মুমিনদের জন্য একটি চিরন্তন শিক্ষা রেখে গেছেন — যে, সত্য সর্বদা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মিথ্যা ধ্বংস হয়ে যায়।


📜 আয়াত 11-15 — আন-নূর

11إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۚ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُم مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ ۚ وَالَّذِي تَوَلَّىٰ كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।
12لَّوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَٰذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ
তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?
13لَّوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ ۚ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَٰئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ
তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।
14وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত।
15إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ
যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।
আন-নূরকুরআন সূচী
64আয়াত
মাদানীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আন-নূর 13

সূরা আন-নূর আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর…

সূরা আয়াত 13/64 — আন-নূর النور (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নূর শুনুন, আন-নূর অনুবাদ, আন-নূর mp3, আন-নূর pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না