আল-ফুরকান · 60/77
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফুরকান
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَٰنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَٰنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًا ۩ ۝٦٠
Wa izaa qeela lahumus judoo lir Rahmaani qaaloo wa mar Rahmaanu anasjudu limaa taamurunaa wa zaadahum nufooraa
📖 বাংলা অর্থ
তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে, দয়াময় আবার কে? তুমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করলেই কি আমরা সেজদা করব? এতে তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি পায়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الرَّحْمَٰنِ (রাহমান): পরম দয়ালু, যার রহমত সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে। এটি আল্লাহর বিশেষ নামগুলোর একটি।
  • نُفُورًا (নুফুরান): বিমুখতা, দূরে সরে যাওয়া, ঘৃণা ও অপছন্দ।

তাফসীর:

যখন কাফিরদেরকে বলা হয়, “তোমরা পরম দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং তাঁরই ইবাদত কর,” তখন তারা অবজ্ঞা ও অহংকারের সাথে উত্তর দেয়, “রাহমান আবার কী? আমরা তো রাহমানকে চিনিই না!” তাদের এই অজ্ঞতা ও অস্বীকৃতির কারণ ছিল, কুরাইশরা আল্লাহর এই সুন্দর নামটি সম্পর্কে অপরিচিত ছিল এবং তারা এটাকে অস্বীকার করত। তারা আরও বলত, “আমরা কি সিজদা করব তাকে, যার সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞানই নেই? তুমি আমাদেরকে যা আদেশ করছ, আমরা কি তা-ই মেনে নেব?” তাদের এই প্রশ্নবোধক বাক্যটি আসলে অস্বীকৃতি ও প্রত্যাখ্যানেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। এর ফলে তাদেরকে সিজদার আদেশ দেওয়া তাদের ঈমান থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিল এবং তাদের অন্তরে ঘৃণা ও বিদ্বেষ আরও বৃদ্ধি পেল। তারা সত্য থেকে বিন্দুমাত্র উপকৃত হলো না, বরং তাদের বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতাই বেড়ে গেল।

শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. আল্লাহ তাআলার পরিচয় ও নামসমূহ জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। যারা আল্লাহকে চেনে না, তারা তাঁর আদেশ পালন থেকেও দূরে থাকে।
  2. অহংকার ও জিদ মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করে। কাফিররা সত্য জানার পরও অহংকারবশত তা মেনে নেয়নি, ফলে তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে গেল।
  3. হেদায়াত লাভ করা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়। যখন কোনো ব্যক্তি সত্য গ্রহণে অনাগ্রহী হয়, তখন তার কাছে দাওয়াত পৌঁছানোও তার জন্য হেদায়াতের পরিবর্তে দূরত্বই বাড়িয়ে দেয়।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি, সিজদা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও বিনয়ের সর্বোচ্চ প্রকাশ। মুমিনের উচিত আনন্দচিত্তে আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং তাঁর সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করা।
  5. দাওয়াতের কাজে নিরাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা উচিত। মানুষের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন, সত্য প্রচারের দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে।


📜 আয়াত 58-62 — আল-ফুরকান

58وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ ۚ وَكَفَىٰ بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا
আপনি সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা করুন, যার মৃত্যু নেই এবং তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন। তিনি বান্দার গোনাহ সম্পর্কে যথেষ্ট খবরদার।
59الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ الرَّحْمَٰنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا
তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর।
60وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَٰنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَٰنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًا ۩
তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে, দয়াময় আবার কে? তুমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করলেই কি আমরা সেজদা করব? এতে তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি পায়।
61تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُّنِيرًا
কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।
62وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ أَرَادَ أَن يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًا
যারা অনুসন্ধানপ্রিয় অথবা যারা কৃতজ্ঞতাপ্রিয় তাদের জন্যে তিনি রাত্রি ও দিবস সৃষ্টি করেছেন পরিবর্তনশীলরূপে।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীRevelation
60আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 60

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 60 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে,…

সূরা আয়াত 60/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 58–62. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না