আন-নামল · 14/93
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নামল
وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ۚ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ۝١٤
Wa jahadoo bihaa wastaiqanat haaa anfusuhum zulmanw-wa `uluwwaa; fanzur kaifa kaana `aaqibatul mufsideen
📖 বাংলা অর্থ
তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • جَحَدُوا – অস্বীকার করেছে, মুখে স্বীকার করেনি।
  • اسْتَيْقَنَتْهَا – তাদের অন্তর নিশ্চিতভাবে জেনে গিয়েছিল (যে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য)।
  • ظُلْمًا – জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে।
  • عُلُوًّا – অহংকার ও বড়ত্বের কারণে।
  • عَاقِبَةُ – পরিণতি, শেষ অবস্থা।
  • الْمُفْسِدِينَ – যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে মূসা (আঃ)-এর সময়ের ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের অবস্থা বর্ণনা করছেন। তাদের কাছে মূসা (আঃ)-এর সত্যতা প্রমাণের জন্য নয়টি স্পষ্ট ও অলৌকিক নিদর্শন (যেমন- লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, হাত উজ্জ্বল হওয়া, বন্যা, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত ইত্যাদি) উপস্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো ছিল এতটাই সুস্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত যে, কোনো বুদ্ধিমান মানুষই তা অস্বীকার করতে পারত না।

তাদের অন্তর গভীরভাবে নিশ্চিত ছিল যে, এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং মূসা (আঃ) সত্যিই আল্লাহর রাসূল। কিন্তু তবুও তারা মুখে তা অস্বীকার করল এবং মেনে নিতে অস্বীকার করল। তাদের এই অস্বীকারের কারণ ছিল দুটি – জুলুম (সীমালঙ্ঘন ও অন্যায়) এবং অহংকার (বড়ত্ব ও উচ্চতা)। তারা জানত সত্য, কিন্তু সত্য মেনে নেওয়ার মধ্যে যে বিনয় ও আনুগত্য দরকার, তা তাদের মধ্যে ছিল না। তারা নিজেদেরকে বড় মনে করত এবং মূসা (আঃ)-এর অনুসরণকে নিজেদের মর্যাদার পরিপন্থী মনে করত।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, “তুমি দেখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল!” অর্থাৎ, এই অহংকারী ও জুলুমকারী সম্প্রদায়ের পরিণাম কী হয়েছিল? তাদেরকে সমুদ্রে ডুবিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। তাদের শক্তি, ঐশ্বর্য, সৈন্যবাহিনী – কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারেনি। এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর শিক্ষা – যারা সত্য জানার পরও অহংকার ও জুলুমের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের পরিণতি সর্বদা ধ্বংসই হয়ে থাকে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য জানা যথেষ্ট নয়; সত্যকে মেনে নেওয়া এবং তার অনুসরণ করাই আসল। যারা জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের অজুহাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
  2. অহংকার ও জুলুম是人类 ধ্বংসের মূল কারণ। অহংকার মানুষকে সত্য মেনে নিতে বাধা দেয়, আর জুলুম তাকে অন্যায়ের পথে চালিত করে।
  3. আল্লাহর শাস্তি থেকে কেউ পালাতে পারে না। ফিরআউনের মতো শক্তিশালী ও প্রতাপশালী শাসকও যখন আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করল, তখন তার সাম্রাজ্য তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
  4. এই আয়াত আমাদেরকে সতর্ক করে যে, আমরা যেন সত্য জানার পর তা মেনে নিতে দ্বিধা না করি। আল্লাহর কাছে বিনয়ী হয়ে সত্যকে গ্রহণ করাই মুক্তির পথ।
  5. পৃথিবীতে ফাসাদ (অশান্তি, অন্যায়, দুর্নীতি) সৃষ্টি করা মারাত্মক অপরাধ। এর পরিণতি কেবল ইহকালেই নয়, পরকালেও ভয়াবহ। তাই মুমিনের কাজ হলো পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা, ফাসাদ নয়।


📜 আয়াত 12-16 — সূরা আন-নামল

12وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ ۖ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন, সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়। এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
13فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।
14وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ۚ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?
15وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ
আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
16وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ
সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। ’
আন-নামলকুরআন সূচী
93আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
14আয়াত

অনুবাদ — আন-নামল 14

সূরা আন-নামল আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের…

সূরা আয়াত 14/93 — সূরা আন-নামল النمل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নামল শুনুন, সূরা আন-নামল অনুবাদ, সূরা আন-নামল mp3, সূরা আন-নামল pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না