আন-নামল · 13/93
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নামল
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ ۝١٣
Falammaa jaaa`at hum Aayaatunaa mubsiratan qaaloo haazaa sihrum mubeen
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُبْصِرَةً — চোখে দেখা যায় এমন, স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট প্রমাণ।
  • سِحْرٌ — জাদু।
  • مُبِينٌ — স্পষ্ট, প্রকাশ্য, সুস্পষ্ট।

তাফসির:

এরপর যখন মূসা (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার সেই স্পষ্ট ও দৃশ্যমান নিদর্শনসমূহ ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছল—যেগুলো ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, প্রমাণপূর্ণ এবং যে কেউ সেগুলোর দিকে তাকালে সত্যতা উপলব্ধি করতে পারত—তখন তারা সত্যকে অস্বীকার করে বলল, “এটা তো স্পষ্ট জাদু!” অর্থাৎ মূসা (আ.) যা নিয়ে এসেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কোনো মু‘জিযা নয়, বরং এক প্রকাশ্য জাদু, যা দ্বারা সে আমাদের চোখকে বশীভূত করতে চায়।

তাদের এই উক্তিটি ছিল সম্পূর্ণ অন্যায় ও মিথ্যা। কারণ এসব নিদর্শন ছিল চোখের সামনে প্রকাশ্য, বুদ্ধি-বিবেক দিয়ে উপলব্ধিযোগ্য এবং সত্য প্রমাণে অকাট্য। তবুও তারা হঠকারিতা ও অহংকারবশত সেগুলোকে জাদু বলে আখ্যা দিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়ার পরও যারা তা অস্বীকার করে, তাদের অন্তর অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং তারা নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে আনে। আল্লাহর নিদর্শন দেখে সত্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
  2. নবী-রাসূলগণের মু‘জিযা কখনো জাদু হতে পারে না; কারণ জাদু মানুষের কলাকৌশল, আর মু‘জিযা আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিক প্রমাণ। এ দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
  3. সত্যের দাওয়াত পৌঁছানোর পর মানুষের দায়িত্ব শেষ; যারা সত্য গ্রহণ করবে তারা সফলকাম হবে, আর যারা অস্বীকার করবে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে সত্যকে মেনে নিতে হবে।
  4. এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কুফরি ও অহংকার মানুষকে সত্য দেখার পরও তা মেনে নিতে বাধা দেয়। তাই আমাদের উচিত বিনয়ী হয়ে সত্য গ্রহণ করা এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।


📜 আয়াত 11-15 — সূরা আন-নামল

11إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
12وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ ۖ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন, সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়। এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
13فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।
14وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ۚ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?
15وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ
আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
আন-নামলকুরআন সূচী
93আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
13আয়াত

অনুবাদ — আন-নামল 13

সূরা আন-নামল আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন…

সূরা আয়াত 13/93 — সূরা আন-নামল النمل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নামল শুনুন, সূরা আন-নামল অনুবাদ, সূরা আন-নামল mp3, সূরা আন-নামল pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না