إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۗ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ ٥١
🔤 Transliteration
Innal laaha Rabbee wa Rabbukum fa`budooh; haazaa Siraatum Mustaqeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা-তাঁর এবাদত কর, এটাই হলো সরল পথ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
শব্দার্থ:
- রব্বী – আমার প্রতিপালক
- রব্বুকুম – তোমাদের প্রতিপালক
- ফা‘বুদূহু – সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো
- সিরাতুন মুস্তাকীম – সরল-সঠিক পথ
তাফসীর:
হযরত ঈসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে যে স্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন দেখিয়েছিলেন, তার পরই তিনি ঘোষণা করেন— “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক।” অর্থাৎ তিনি একক স্রষ্টা, একক রব। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি তাঁর বান্দা, তোমরাও তাঁর বান্দা। কোনো মানুষকে উপাস্য বানানোর সুযোগ এখানে নেই। ঈসা (আঃ) নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল বলেই পরিচয় দিয়েছেন, কখনো নিজেকে উপাস্য বলেননি। তাই তিনি বলেন, “সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।” কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি আল্লাহর ইবাদত করো। কারণ ইবাদত তো কেবল সেই সত্তারই প্রাপ্য, যিনি সৃষ্টি করেছেন, লালন-পালন করেন এবং যিনি সবকিছুর মালিক।
এরপর তিনি বলেন, “এইটিই সরল পথ।” অর্থাৎ তাওহীদের এই পথই হলো একমাত্র সঠিক ও অবিচলিত পথ, যাতে কোনো বক্রতা নেই। যে ব্যক্তি এই পথে চলে, সে কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। ঈসা (আঃ) তাঁর উম্মতকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁর প্রচারিত দ্বীন হলো আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁরই ইবাদত—এটিই মুক্তির পথ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- সকল নবী-রাসূলের মূল বাণী একটিই—তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। ঈসা (আঃ)-ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।
- কোনো নবী বা অলিকে উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক। নবীগণ নিজেরাও আল্লাহর বান্দা ছিলেন এবং উম্মতদেরকেও বান্দা হওয়ারই নির্দেশ দিয়েছেন।
- আল্লাহর ইবাদত করতে হবে একনিষ্ঠভাবে, কোনো শরীক বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়া। এটিই ইসলামের মূল শিক্ষা।
- সরল পথের পরিচয় হলো—সেটি যেন কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়। যে পথে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে, সেটিই প্রকৃত সিরাতুল মুস্তাকীম।
- এই আয়াত আমাদের শেখায়—নিজের পরিচয় ও বিশ্বাস সম্পর্কে দ্বিধাহীন ও স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে, যেমনটি ঈসা (আঃ) দিয়েছিলেন।
📜 আয়াত 49-53 — সূরা আল-ইমরান
49وَرَسُولًا إِلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُم بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِ اللَّهِ ۖ وَأُنَبِّئُكُم بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
আর বণী ইসরাঈলদের জন্যে রসূল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দেই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দেই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
50وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَلِأُحِلَّ لَكُم بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ ۚ وَجِئْتُكُم بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
আর এটি পূর্ববর্তী কিতাব সমুহকে সত্যায়ন করে, যেমন তওরাত। আর তা এজন্য যাতে তোমাদের জন্য হালাল করে দেই কোন কোন বস্তু যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। আর আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের পালনকর্তার নিদর্শনসহ। কাজেই আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
51إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۗ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা-তাঁর এবাদত কর, এটাই হলো সরল পথ।
52۞ فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَىٰ مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ ۖ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
অতঃপর ঈসা (আঃ) যখন বণী ইসরায়ীলের কুফরী সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারলেন, তখন বললেন, কারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সঙ্গী-সাথীরা বললো, আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তুমি সাক্ষী থাক যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি।
53رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদিগকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও।
অনুবাদ — আল-ইমরান 51
সূরা আল-ইমরান আয়াত 51 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা-তাঁর এবাদত কর, এটাই…
সূরা আয়াত 51/200 — সূরা আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইমরান শুনুন, সূরা আল-ইমরান অনুবাদ, সূরা আল-ইমরান mp3, সূরা আল-ইমরান pdf. আয়াত 49–53. বাংলা অর্থ: हिन्दी.