আল-ইমরান · 80/200
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইমরান
وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا ۗ أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ ۝٨٠
Wa laa yaamurakum an tattakhizul malaaa `ikata wan Nabiyyeena arbaabaa; a yaamurukum bilkufri ba`da iz antum muslimoon
📖 বাংলা অর্থ
তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগনকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَرْبَابًا (রব/প্রভু): এখানে উপাস্য বা ইলাহ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা করা হয়।
  • أَيَأْمُرُكُم (তিনি কি তোমাদের আদেশ দেন?): এটি একটি বিস্ময়সূচক ও অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন, যার অর্থ— এমনটি কখনো হতে পারে না।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নবী ও রাসূলগণ কখনো মানুষকে ফেরেশতা বা নবী-রাসূলদেরকে রব বা উপাস্য বানানোর আদেশ দেননি। যেমন— কুরাইশ সম্প্রদায় ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে তাদের উপাসনা করত, আর ইহুদি-খ্রিস্টানরা উযায়ের (আ.) ও ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে তাদেরকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিল। অথচ নবীগণ তো মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্যই আহ্বান করেছেন এবং তাঁর একত্ব ও তাঁর বিধানাবলী শেখানোর জন্যই প্রেরিত হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হলো— যে ব্যক্তি নিজে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়ে মানুষকে তাওহীদের শিক্ষা দেয়, সে কী করে মানুষকে শিরকের আদেশ দিতে পারে? নবীগণ তো মানুষকে কুফরি ও শিরকের দিকে ডাকেননি, বরং তারা মানুষকে ইসলাম ও ঈমানের দিকে ডেকেছেন। মানুষ যখন ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন নবী কীভাবে তাদেরকে আবার কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন? এটি সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অকল্পনীয় ব্যাপার। বরং নবীগণের শিক্ষা হলো— আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো থেকে বিরত থাকা এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. নবী-রাসূলগণ সকলেই তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং শিরক থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন। তাই নবী বা অলি-আউলিয়াদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বানানো বা তাদের কাছে দোয়া চাওয়া সম্পূর্ণ ভুল ও ইসলামবিরোধী কাজ।
  2. ইসলামের মূল শিক্ষা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর কাছে সরাসরি প্রার্থনা করা। কোনো মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই আল্লাহ তার বান্দার ডাকে সাড়া দেন।
  3. যে ব্যক্তি একবার ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, তার উচিত দ্বীনের উপর অটল থাকা এবং শিরক-কুফরের যেকোনো পথ থেকে দূরে থাকা।
  4. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, নবীগণের মর্যাদা যতই উচ্চ হোক না কেন, তারা আল্লাহর বান্দা এবং তাদের ইবাদত করা সম্পূর্ণ হারাম। ভালোবাসা ও সম্মান করা যেতে পারে, কিন্তু উপাস্য বানানো যাবে না।


📜 আয়াত 78-82 — সূরা আল-ইমরান

78وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তার কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহরই প্রতি মিথ্যারোপ করে।
79مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِّي مِن دُونِ اللَّهِ وَلَٰكِن كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ
কোন মানুষকে আল্লাহ কিতাব, হেকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে বলবে যে, ‘তোমরা আল্লাহকে পরিহার করে আমার বান্দা হয়ে যাও’-এটা সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, যেমন, তোমরা কিতাব শিখাতে এবং যেমন তোমরা নিজেরা ও পড়তে।
80وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا ۗ أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ
তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগনকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে?
81وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُم مِّن كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ ۚ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَىٰ ذَٰلِكُمْ إِصْرِي ۖ قَالُوا أَقْرَرْنَا ۚ قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ
আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।
82فَمَن تَوَلَّىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
অতঃপর যে লোক এই ওয়াদা থেকে ফিরে দাঁড়াবে, সেই হবে নাফরমান।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
80আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 80

সূরা আল-ইমরান আয়াত 80 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও…

সূরা আয়াত 80/200 — সূরা আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইমরান শুনুন, সূরা আল-ইমরান অনুবাদ, সূরা আল-ইমরান mp3, সূরা আল-ইমরান pdf. আয়াত 78–82. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না