Wa iz akhazal laahu meesaaqan Nabiyyeena lamaaa aataitukum min Kitaabinw wa Hikmatin summa jaaa`akum Rasoolum musaddiqul limaa ma`akum latu`minunna bihee wa latansurunnah; qaala `aaqrartum wa akhaztum alaa zaalikum isree qaalooo aqrarnaa; qaala fashhadoo wa ana ma`akum minash shaahideen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(और ऐ रसूल वह वक्त भी याद दिलाओ) जब ख़ुदा ने पैग़म्बरों से इक़रार लिया कि हम तुमको जो कुछ किताब और हिकमत (वगैरह) दे उसके बाद तुम्हारे पास कोई रसूल आए और जो किताब तुम्हारे पास उसकी तसदीक़ करे तो (देखो) तुम ज़रूर उस पर ईमान लाना, और ज़रूर उसकी मदद करना (और) ख़ुदा ने फ़रमाया क्या तुमने इक़रार लिया तुमने मेरे (एहद का) बोझ उठा लिया सबने अर्ज़ की हमने इक़रार किया इरशाद हुआ (अच्छा) तो आज के क़ौल व (क़रार के) आपस में एक दूसरे के गवाह रहना
আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ميثاق — অঙ্গীকার, দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
إصر — দৃঢ় চুক্তি, কঠিন অঙ্গীকার।
حكمة — জ্ঞান, নবুওয়াতের জ্ঞান ও সুন্নাহ।
مصدق — সত্যায়নকারী, যা আগে এসেছে তা সমর্থনকারী।
তাফসীর:
হে রাসূল! স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন আল্লাহ তাআলা সমস্ত নবীদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন: “আমি তোমাদেরকে যে কিতাব (আসমানী গ্রন্থ) এবং হিকমত (জ্ঞান ও শরীয়তের বিধান) দান করেছি, তার পরেও যদি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন রাসূল তোমাদের কাছে আসে, যে তোমাদের কাছে থাকা কিতাবকে সত্যায়ন করে — বিশেষ করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) — তবে তোমাদের অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং তাকে সাহায্য করতে হবে।”
এরপর আল্লাহ তাআলা নবীদের জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা কি এ বিষয়ে স্বীকার করছ? এবং আমার এই দৃঢ় অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করছ?” তারা সবাই একযোগে উত্তর দিল: “হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করলাম।” তখন আল্লাহ বললেন: “তোমরা নিজেরা একে অপরের সাক্ষী থাকো, এবং আমি তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম — তোমাদের উপর এবং তোমাদের উম্মতদের উপরও।”
এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাকে সাহায্য করবেন, যদি তারা তার যুগে উপস্থিত থাকতেন। আর তাদের উম্মতদের কাছ থেকেও একই অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক নবী নিজ নিজ উম্মতকে এই মর্মে সাক্ষী রেখে গেছেন যে, তারা যেন পরবর্তী রাসূলের প্রতি ঈমান আনে এবং তাকে সাহায্য করে। এই কারণেই প্রত্যেক নবী নিজ উম্মতকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তার অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী প্রেরণ করেছেন, কিন্তু সকল নবী একই সত্য দ্বীনের উপর ছিলেন — ইসলামের উপর। তাদের সকলের আহ্বান ছিল এক ও অভিন্ন।
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং তাকে সাহায্য করা প্রত্যেক নবী ও তাদের উম্মতের উপর আবশ্যক ছিল। এটি ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস।
আল্লাহ তাআলা নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন — এটি প্রমাণ করে যে, নবীগণ ছিলেন অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, এবং তাদের সাথে আল্লাহর সরাসরি কথোপকথন ও অঙ্গীকার ছিল।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্যের উপর অটল থাকা এবং পরবর্তী সত্যের দাওয়াতকে সমর্থন করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। আমরা যেন কখনো সত্যকে প্রত্যাখ্যান না করি।
আল্লাহ তাআলা নিজে সাক্ষী — এটি আমাদের মনে এই আস্থা জাগায় যে, আমাদের প্রতিটি ভালো কাজ এবং অঙ্গীকার আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আমাদের প্রচেষ্টার সাক্ষী থাকবেন এবং এর প্রতিদান দেবেন।
কোন মানুষকে আল্লাহ কিতাব, হেকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে বলবে যে, ‘তোমরা আল্লাহকে পরিহার করে আমার বান্দা হয়ে যাও’-এটা সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, যেমন, তোমরা কিতাব শিখাতে এবং যেমন তোমরা নিজেরা ও পড়তে।
তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগনকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে?
আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।
তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।