লুকমান · 11/34
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা লুকমান
هَٰذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ ۚ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ۝١١
Haazaa khalqul laahi fa aroonee maazaa khalaqal lazeena min doonih; baliz zaalimoona fee dalalim Mubeen
📖 বাংলা অর্থ
এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • خَلْقُ اللهِ — আল্লাহর সৃষ্টি।
  • فَأَرُونِي — তাহলে আমাকে দেখাও।
  • مَاذَا خَلَقَ — কী সৃষ্টি করেছে।
  • الَّذِينَ مِن دُونِهِ — যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া উপাস্য বানিয়েছে।
  • الظَّالِمُونَ — যালিমরা (সীমালঙ্ঘনকারী)।
  • ضَلَالٍ مُّبِينٍ — সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন — আসমান, জমিন, পাহাড়, সাগর, মানুষ, পশু-পাখি, গাছপালা, দিন-রাত, সূর্য-চাঁদ — এই সমস্ত কিছু যা তোমরা দেখছ, তা আল্লাহরই সৃষ্টি। তিনি একাই এগুলো সৃষ্টি করেছেন, কোনো অংশীদার ছাড়া। এরপর আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন সেই সব মুশরিকদের প্রতি যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য বানিয়েছে — “তোমরা যাদেরকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়েছ, তাদেরকে ডেকে আনো এবং দেখাও, তারা এই বিশাল সৃষ্টির মধ্যে কী সৃষ্টি করেছে?” অর্থাৎ, তোমাদের উপাস্যগুলো যদি সত্যিই উপাস্য হয়, তবে তাদের সৃষ্টির কিছু নমুনা দেখাও। কিন্তু তারা কখনোই তা পারবে না, কারণ তারা নিজেরাই সৃষ্ট, তারা কোনো কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না।

আল্লাহ তাআলা এখানে একটি যুক্তিপূর্ণ প্রশ্নের মাধ্যমে মুশরিকদের অজ্ঞতা ও ভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ যে সৃষ্টি করতে পারে না, সে কীভাবে উপাস্য হতে পারে? উপাস্য তো সেই হতে পারে, যিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, জীবন-মৃত্যুর মালিক। কিন্তু তারা এমন বস্তুর পূজা করছে, যারা নিজেরা অসহায়, কোনো উপকার বা অপকার করতে সক্ষম নয়।

এরপর আল্লাহ বলেন — “বরং যালিমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে।” অর্থাৎ, এই মুশরিকরা শুধু ভুল করছে না, বরং তারা স্পষ্টভাবে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। তাদের এই শিরকি কাজটি কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে তারা পথভ্রষ্ট। কারণ তারা সত্যকে জেনেও অথবা না জেনে এমন কাজ করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই — আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে ঈমান মজবুত হয়। আকাশের বিশালতা, পৃথিবীর সৌন্দর্য, মানুষের শরীরের জটিল গঠন — সবকিছুই আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ। যে ব্যক্তি এই সৃষ্টি দেখে চিন্তা করে না, সে প্রকৃতপক্ষে অন্ধ। আর যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য বানায়, সে নিজের উপর জুলুম করে এবং সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত থাকে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করার এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 9-13 — সূরা লুকমান

9خَالِدِينَ فِيهَا ۖ وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
10خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَابَّةٍ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।
11هَٰذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ ۚ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।
12وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ لِلَّهِ ۚ وَمَن يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ
আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
13وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়।
লুকমানকুরআন সূচী
34আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
11আয়াত

অনুবাদ — লুকমান 11

সূরা লুকমান আয়াত 11 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে,…

সূরা আয়াত 11/34 — সূরা লুকমান لقمان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা লুকমান শুনুন, সূরা লুকমান অনুবাদ, সূরা লুকমান mp3, সূরা লুকমান pdf. আয়াত 9–13. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না