অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- فَفَزِعَ – তিনি ভীত হয়ে পড়লেন, আতঙ্কিত হলেন।
- خَصْمَانِ – দুজন বিবাদমান পক্ষ / দুই বাদী-প্রতিবাদী।
- بَغَى – অত্যাচার করেছে, সীমালঙ্ঘন করেছে।
- لَا تُشْطِطْ – তুমি সীমালঙ্ঘন করো না, অন্যায় করো না।
- سَوَاءِ الصِّرَاطِ – ন্যায় ও সঠিক পথ।
তাফসীর:
আয়াতটি হযরত দাউদ (আঃ)-এর জীবনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করছে। ঘটনাটি হলো—একদিন হঠাৎ করেই দুজন বিবদমান ব্যক্তি দাউদ (আঃ)-এর ইবাদতখানায় প্রবেশ করে। তারা সাধারণ দরজা দিয়ে আসেনি, বরং প্রাচীর টপকে বা অস্বাভাবিক উপায়ে তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এতে দাউদ (আঃ) ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ এ রকম আকস্মিক ও অস্বাভাবিক প্রবেশ তাঁর জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত। তারা তাঁর ভয় দেখে সাথে সাথে আশ্বস্ত করে বলে, "ভয় পেয়ো না। আমরা দুজন বিবদমান পক্ষ, আমাদের একজন অন্যজনের উপর জুলুম করেছে। আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন। আমরা চাই আপনার রায় হবে সম্পূর্ণ সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। আমরা চাই না আপনি কোনো পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়ুন বা সীমালঙ্ঘন করুন। আমাদেরকে সঠিক ও ন্যায়ের পথ দেখান।"
তারা তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিল যে, তারা কোনো শত্রুতা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে আসেনি, বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্যই তারা এসেছে। দাউদ (আঃ) ছিলেন ন্যায়বিচারের জন্য বিখ্যাত একজন নবী ও শাসক, তাই তারা তাঁর কাছেই বিচারপ্রার্থী হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দাউদ (আঃ) তাদের কথা শুনে বিচার শুরু করেন, যা পরবর্তী আয়াতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- ন্যায়বিচার ইসলামের মূল স্তম্ভ: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামে ন্যায়বিচার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি নবী-রাসূলগণকেও মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের ক্ষেত্রে ও পরিবারে ন্যায়বিচার করা।
- বিচারক বা নেতার জন্য দিকনির্দেশনা: যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিচার করবে বা নেতৃত্ব দেবে, তার জন্য এই আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশ—তাকে অবশ্যই সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারো প্রতি ঝুঁকে পড়া যাবে না, এবং সীমালঙ্ঘন করা যাবে না।
- ভয়ের সময় ধৈর্য ও আশ্বাস: দাউদ (আঃ) ভীত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধৈর্য ধারণ করেন এবং তাদের কথা শোনেন। আমাদের উচিত কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরা এবং বিপদে পড়া মানুষকে আশ্বস্ত করা।
- সত্যের পথে পরিচালিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা: বিবদমান পক্ষ দুটি সত্য ও ন্যায়ের পথ চেয়েছিল। আমাদের জীবনেও প্রতিটি কাজে সত্য ও ন্যায়ের পথ বেছে নেওয়া উচিত, এমনকি নিজের স্বার্থের বিপক্ষে গেলেও।
- ইসলামের মহানুভবতা: এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসলামের দৃষ্টিতে বিচার ব্যবস্থা এতই সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক যে, মানুষ নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য নবী-রাসূলদের কাছে আসত এবং ন্যায়বিচার পেত। এটি ইসলামের সৌন্দর্য ও মহিমা প্রকাশ করে।
📜 আয়াত 20-24 — সাদ
অনুবাদ — সাদ 22
সূরা সাদ আয়াত 22 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন তারা দাউদের কাছে অনুপ্রবেশ করল, তখন সে সন্ত্রস্ত হয়ে…সূরা আয়াত 22/88 — সাদ ص (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সাদ শুনুন, সাদ অনুবাদ, সাদ mp3, সাদ pdf. আয়াত 20–24. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








