আন-নিসা · 33/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ ۚ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا ۝٣٣
Wa likullin ja`alnaa ma waaliya mimmaa tarakal waalidaani wal aqraboon; wallazeena `aqadat aimaanukum fa aatoohum naseebahum; innal laaha kaana `alaa kulli shai`in Shaheedaa
📖 বাংলা অর্থ
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مَوَالِيَ (মাওয়ালি): উত্তরাধিকারী, ওয়ারিস বা অভিভাবক।
  • عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ (আকাদাত আইমানুকুম): যে সকল লোকের সাথে তোমরা শপথ বা চুক্তি করেছ (মু'আখাত বা ভ্রাতৃত্ব বন্ধন)।
  • نَصِيبَهُمْ (নাসিবাহুম): তাদের প্রাপ্য অংশ বা হিস্যা।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, প্রত্যেক সম্পত্তি বা পরিত্যক্ত মালের জন্য তিনি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তার জন্য ওয়ারিস নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেক মানুষের জন্য তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী রয়েছে, যারা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সেই সম্পত্তির অধিকারী হবে।

আর যাদের সাথে তোমরা শপথ বা চুক্তির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছ (ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপিত হয়েছিল এবং পারস্পরিক উত্তরাধিকারের চুক্তি হয়েছিল), তাদেরকে তাদের নির্ধারিত অংশ প্রদান করো। ইসলামের শুরুতে এই চুক্তিভিত্তিক উত্তরাধিকার প্রথা চালু ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মীরাসের আয়াত নাজিল হওয়ার মাধ্যমে এই বিধান রহিত (মানসুখ) হয়ে যায় এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দেরই উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা হয়।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি তোমাদের সকল কাজ, চুক্তি ও অঙ্গীকারের সাক্ষী। তিনি দেখছেন কে তার দায়িত্ব পালন করছে এবং কে অবহেলা করছে, আর তিনি প্রত্যেককে তার কাজের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. ইসলাম একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেকের অধিকার সুনির্ধারিত। সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেও আল্লাহ নিজেই ন্যায়সঙ্গত নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যাতে কারো প্রতি জুলুম না হয়।
  2. আল্লাহর দৃষ্টি সর্বত্র বিদ্যমান। তিনি আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি অঙ্গীকার ও প্রতিটি লেনদেন দেখছেন। এই উপলব্ধি আমাদের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পথে পরিচালিত করে।
  3. ইসলামের বিধানগুলো সময়োপযোগী ও যুক্তিসঙ্গত। প্রয়োজনে পুরনো বিধান রহিত করে নতুন বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে, যা মানুষের কল্যাণের জন্যই। এটি প্রমাণ করে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও গতিশীল জীবনধারা।
  4. অঙ্গীকার ও চুক্তি পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং অপরের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে।


📜 আয়াত 31-35 — সূরা আন-নিসা

31إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
32وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।
33وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ ۚ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।
34الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
35وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
33আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 33

সূরা আন-নিসা আয়াত 33 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি…

সূরা আয়াত 33/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 31–35. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না