ফুসসিলাত · 14/54
অনুবাদ উচ্চারণ — ফুসসিলাত
إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ ۝١٤
Iz jaaa`at humur Rusulu mim baini aydeehim wa min khalfihim allaa ta`budooo illal laaha qaaloo law shaaa`a Rabunaa la anzala malaaa `ikatan fa innaa bimaaa ursiltum bihee kaafiroon
📖 বাংলা অর্থ
যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ — অর্থ: তাদের সামনে থেকে এবং পেছন থেকে, অর্থাৎ প্রতিটি দিক থেকে।
  • أَلَّا تَعْبُدُوا — অর্থ: যেন তোমরা ইবাদত না করো।
  • كَافِرُونَ — অর্থ: অস্বীকারকারী, প্রত্যাখ্যানকারী।

তাফসীর:

আয়াতটি ‘আদ ও সামুদ জাতির ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিলেন—একের পর এক, সামনে থেকে এবং পেছন থেকে, অর্থাৎ প্রতিটি দিক থেকে এবং প্রতিটি যুগে—তাদেরকে একটিই আহ্বান জানিয়ে: “তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করো না।” কিন্তু তারা অহংকার ও হঠকারিতার সাথে জবাব দিয়েছিল: “আমাদের রব যদি চাইতেন যে আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাহলে তিনি আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠাতেন, তোমাদের মতো মানুষ নয়। তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ। সুতরাং তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, আমরা তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি।”

তাদের এই উক্তি ছিল সম্পূর্ণ অজুহাত ও বাতিল যুক্তি। কারণ রাসূল হিসেবে মানুষ পাঠানোই আল্লাহর চিরন্তন বিধান, যাতে মানুষ তাদের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ফেরেশতা পাঠানো হলে মানুষ তাদের দেখতে পেত না, বা তাদের সাথে কথা বলতে পারত না। আর যদি ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করতেন, তাহলে আবারও তারা একই অজুহাত দেখাত। তাই তাদের এই কথা ছিল নিছক কুযুক্তি, যা তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করার জন্য ব্যবহার করেছিল।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. রাসূলদের আগমন প্রতিটি দিক থেকে এবং প্রতিটি সময়ে আল্লাহর রহমত ও দয়া—যাতে মানুষ সতর্ক হতে পারে এবং সঠিক পথ খুঁজে পায়।
  2. মানুষকে রাসূল বানিয়ে পাঠানো আল্লাহর সুন্নত (বিধান), কারণ মানুষই মানুষের জন্য সর্বোত্তম উদাহরণ ও শিক্ষক হতে পারে।
  3. সত্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অজুহাত তৈরি করা কুফরি ও ধ্বংসের কারণ। আল্লাহর নির্দেশ আসার পর তা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
  4. অহংকার ও নিজেদেরকে বড় মনে করার কারণে মানুষ সত্য থেকে দূরে সরে যায়—এটি একটি বড় শিক্ষা।
  5. আল্লাহর রহমত ও হেদায়েত পাওয়ার জন্য বিনয়ী হওয়া জরুরি; যে বিনয়ী নয়, সে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত থাকে।


📜 আয়াত 12-16 — ফুসসিলাত

12فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
13فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنذَرْتُكُمْ صَاعِقَةً مِّثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ
অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত।
14إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ
যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।
15فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً ۖ أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً ۖ وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর ? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত।
16فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِيقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَخْزَىٰ ۖ وَهُمْ لَا يُنصَرُونَ
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
14আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 14

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন…

সূরা আয়াত 14/54 — ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ফুসসিলাত শুনুন, ফুসসিলাত অনুবাদ, ফুসসিলাত mp3, ফুসসিলাত pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না