ফুসসিলাত · 49/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
لَّا يَسْأَمُ الْإِنسَانُ مِن دُعَاءِ الْخَيْرِ وَإِن مَّسَّهُ الشَّرُّ فَيَئُوسٌ قَنُوطٌ ۝٤٩
Laa yas`amul insaanu min du`aaa`il khairi wa im massa hush sharru fa ya`oosun qanoot
📖 বাংলা অর্থ
মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَا يَسْأَمُ – ক্লান্ত হয় না, বিরক্ত হয় না, কখনো থেমে যায় না।
  • دُعَاءِ الْخَيْرِ – কল্যাণ কামনা করা, অর্থাৎ সম্পদ, সুস্থতা, সন্তান ইত্যাদি দুনিয়ার ভালো জিনিস প্রার্থনা করা।
  • مَسَّهُ – তাকে স্পর্শ করে, তাকে আক্রান্ত করে।
  • الشَّرُّ – অমঙ্গল, অর্থাৎ দারিদ্র্য, রোগ, কষ্ট ইত্যাদি।
  • يَئُوسٌ – আশাহত, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ।
  • قَنُوطٌ – হতাশাগ্রস্ত, যে নিজের উপর এবং আল্লাহর রহমতের উপর থেকে সম্পূর্ণ আশা ছেড়ে দেয়।

তাফসীর:

মানুষের স্বভাব হলো—সে যখন সুস্থ, সম্পদশালী এবং আরাম-আয়েশে থাকে, তখন সে আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কল্যাণ চাইতে কখনো ক্লান্ত হয় না। সে আরও বেশি সম্পদ, আরও ভালো স্বাস্থ্য, আরও সন্তান—এমনকি জীবনের প্রতিটি বিষয়ে উন্নতি কামনা করতে থাকে। কিন্তু যখনই তার উপর কোনো কষ্ট আসে—যেমন দারিদ্র্য, রোগব্যাধি, বা কোনো বিপদ—তখনই সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায়। সে মনে করে তার আর কোনো ভালো হবে না, এবং তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে।

এই আয়াতে মূলত কাফির বা অমুসলিম ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা সুখে আল্লাহকে ভুলে থাকে এবং দুঃখে আল্লাহর রহমত থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যায়। তবে মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো—সে সুখে-দুঃখে উভয় অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয় না।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মানুষের স্বভাবগত দুর্বলতা হলো—সুখে অহংকারী এবং দুঃখে হতাশ হওয়া। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিনের উচিত এই দুর্বলতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
  2. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া একটি মারাত্মক গুনাহ। পবিত্র কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে, “আল্লাহর রহমত থেকে কেবল কাফিররাই নিরাশ হয়।” তাই মুমিনের জীবনে আশা ও ভরসা থাকা অপরিহার্য।
  3. সুখ-সমৃদ্ধিতে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং দুঃখ-কষ্টেও তাঁর উপর ভরসা রাখা—এই দুটোই ঈমানের পরিচয়। দুনিয়ার সুখ-দুঃখ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর রহমত ও করুণা চিরস্থায়ী।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং তাঁর উপর নির্ভর করা উচিত। কষ্টের সময় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর রহমতের আশা করা—এটিই সফলতার চাবিকাঠি।
  5. পরিশেষে, এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—যা মানুষকে সুখে-দুঃখে উভয় অবস্থায় সঠিক পথ দেখায় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক অটুট রাখতে শেখায়।


📜 আয়াত 47-51 — সূরা ফুসসিলাত

47۞ إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ
কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না।
48وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَدْعُونَ مِن قَبْلُ ۖ وَظَنُّوا مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ
পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই।
49لَّا يَسْأَمُ الْإِنسَانُ مِن دُعَاءِ الْخَيْرِ وَإِن مَّسَّهُ الشَّرُّ فَيَئُوسٌ قَنُوطٌ
মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে।
50وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِّنَّا مِن بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَٰذَا لِي وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِن رُّجِعْتُ إِلَىٰ رَبِّي إِنَّ لِي عِندَهُ لَلْحُسْنَىٰ ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِمَا عَمِلُوا وَلَنُذِيقَنَّهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ
বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
51وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَىٰ بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاءٍ عَرِيضٍ
আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
49আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 49

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 49 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ…

সূরা আয়াত 49/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না