Wa la in azaqnaahu rahmatam minnaa mim ba`di dar raaa`a massat hu la yaqoolanna haazaa lee wa maaa azunnus Saa`ata qaaa`imatanw wa la`in ruji`tu ilaa Rabbeee inna lee `indahoo lalhusnaa; falanu nabbi`annal lazeena kafaroo bimaa `amiloo wa lanuzeeqan nahum min `azaabin ghaleez
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अगर उसको कोई तकलीफ पहुँच जाने के बाद हम उसको अपनी रहमत का मज़ा चखाएँ तो यक़ीनी कहने लगता है कि ये तो मेरे लिए ही है और मैं नहीं ख़याल करता कि कभी क़यामत बरपा होगी और अगर (क़यामत हो भी और) मैं अपने परवरदिगार की तरफ़ लौटाया भी जाऊँ तो भी मेरे लिए यक़ीनन उसके यहाँ भलाई ही तो है जो आमाल करते रहे हम उनको (क़यामत में) ज़रूर बता देंगें और उनको सख्त अज़ाब का मज़ा चख़ाएगें
বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
رَحْمَةً — অনুগ্রহ, স্বস্তি, সুস্থতা, সমৃদ্ধি।
ضَرَّاءَ — কষ্ট, দুঃখ, রোগ-ব্যাধি, বিপদ-আপদ।
لَلْحُسْنَى — উত্তম প্রতিদান, জান্নাত।
عَذَابٍ غَلِيظٍ — কঠিন ও মারাত্মক শাস্তি।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন আমি মানুষকে কষ্ট ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি দিয়ে নিজের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও স্বস্তি দান করি, তখন সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না; বরং অহংকারে ভরে যায় এবং বলে: “এটা তো আমার প্রাপ্য, আমি এটার যোগ্য বলে এটা পেয়েছি।” সে আখিরাতকে অস্বীকার করে বলে: “আমি মনে করি না কিয়ামত সংঘটিত হবে।” আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কিয়ামত আসবেই এবং আমাকে আমার রবের কাছে ফিরে যেতে হবে, তাহলেও আমার জন্য তাঁর কাছে রয়েছে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত)। কারণ, দুনিয়ায় যেমন আমি আমার যোগ্যতার কারণে সুখ-সমৃদ্ধি পেয়েছি, আখিরাতেও তেমনি পাব। এ কথা সে বিদ্রূপ ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের ছলেই বলে থাকে।
এরপর আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, যারা কুফরি করেছে, তারা যা কিছু মন্দ কাজ করেছে, আমি তাদের সবই অবহিত করব এবং তাদেরকে কঠিন ও মারাত্মক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব। দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সমৃদ্ধি তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মানুষের স্বভাব হলো বিপদে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, কিন্তু বিপদ দূর হলে অহংকারী হয়ে ওঠা। মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
সুখ-সমৃদ্ধিকে নিজের যোগ্যতা ও কৃতিত্বের ফল মনে করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ভুলে যাওয়া ঘোর অহংকার ও গোমরাহির লক্ষণ।
কিয়ামত ও আখিরাতে বিশ্বাস না করা এবং পরকালকে অস্বীকার করা মানুষের ধ্বংসের মূল কারণ।
আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সকল কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন এবং তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে কুফরি ও মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং তাওবা করা।
দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সমৃদ্ধি দেখে ধোঁকায় না পড়ে আখিরাতের সফলতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, অতঃপর তোমরা একে অমান্য কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।