অনুবাদ — Tafsir
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- مَهْدًا (মাহদান): বিছানা, শয্যা, বিশ্রামের স্থান। অর্থাৎ এমনভাবে সমতল ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে মানুষ সেখানে স্থির হয়ে বসবাস করতে পারে।
- سُبُلًا (সুবুলান): পথসমূহ, রাস্তাঘাট। (একবচন: سَبِيل)
- تَهْتَدُونَ (তাহতাদূন): তোমরা পথপ্রাপ্ত হও, সঠিক পথ খুঁজে পাও, হিদায়াত লাভ করা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও কুদরতের কিছু নিদর্শন বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সত্তা যিনি এই বিশাল পৃথিবীকে তোমাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল বিছানার মতো করে দিয়েছেন। যেমন একটি মা তার সন্তানের জন্য কোমল ও আরামদায়ক বিছানা তৈরি করে দেয়, তেমনি আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে তোমাদের জন্য সমতল, স্থির ও বসবাসযোগ্য করে সৃষ্টি করেছেন। পাহাড়-পর্বতকে তিনি খুঁটির মতো স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী না দোলে, আর ভূমিকে করেছেন উর্বর ও বাসযোগ্য।
এরপর তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর বুকে অসংখ্য পথ-ঘাট তৈরি করে দিয়েছেন। পাহাড়ের গা ঘেঁষে, উপত্যকার ভেতর দিয়ে, মরুভূমির বুক চিরে — সর্বত্র তিনি রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা এক শহর থেকে অন্য শহরে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে সহজেই যাতায়াত করতে পারো। ব্যবসা-বাণিজ্য, আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ, হজ-যিয়ারত — সবকিছুই সম্ভব হয়েছে এই পথগুলোর কারণে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, এসবের উদ্দেশ্য হলো — "لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ" অর্থাৎ যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ করো। এই হিদায়াতের দুটি দিক রয়েছে: একটি দুনিয়ার পথ — অর্থাৎ এই পথ-ঘাট দিয়ে তোমরা তোমাদের জীবিকার সন্ধান পাও, ব্যবসা-বাণিজ্য করো, প্রয়োজন মেটাও। আর দ্বিতীয়টি হলো আখিরাতের পথ — অর্থাৎ এই নেয়ামতগুলো দেখে তোমরা আল্লাহর কুদরত ও একত্ববাদ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করো এবং তাঁরই ইবাদতের পথ খুঁজে পাও।
প্রিয় পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, এই বিশাল পৃথিবীকে যদি আল্লাহ সমতল ও বসবাসযোগ্য না করতেন, যদি এর ভূপৃষ্ঠ এত কঠিন ও অসম হতো, তাহলে কি আমরা এখানে এত আরামে জীবনযাপন করতে পারতাম? আর যদি পথ-ঘাট না থাকত, তাহলে মানুষে মানুষে যোগাযোগ কীভাবে হতো? এই প্রতিটি নেয়ামতের পেছনে রয়েছে আল্লাহর অপরিসীম দয়া ও মহাজ্ঞান।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি এত দয়ালু যে, তিনি শুধু দুনিয়ার পথই দেখাননি, বরং কুরআন ও রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে আখিরাতের পথও দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদের উচিত এই নেয়ামতগুলোর শুকরিয়া আদায় করা এবং আল্লাহর দেওয়া এই পথে চলা। যখন আমরা কোনো পথে ভ্রমণ করি, তখন যেন আল্লাহর এই মহান নেয়ামতের কথা স্মরণ করি এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর এই চিন্তা-ভাবনা আমাদের ঈমানকে আরও মজবুত করবে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সাহায্য করবে।
📜 আয়াত 8-12 — সূরা আজ-জুখরুফ
অনুবাদ — আজ-জুখরুফ 10
সূরা আজ-জুখরুফ আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে…সূরা আয়াত 10/89 — সূরা আজ-জুখরুফ الزخرف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আজ-জুখরুফ শুনুন, সূরা আজ-জুখরুফ অনুবাদ, সূরা আজ-জুখরুফ mp3, সূরা আজ-জুখরুফ pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
আজ-জুখরুফ এর সকল পৃষ্ঠা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 21, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








