Qaala `Eesab nu Maryamal laahumma Rabbanaaa anzil `alainaa maaa`idatam minas samaaa`i takoonu lanaa `eedal li awwalinaa wa aakirinaa wa Aayatam minka warzuqnaa wa Anta khairur raaziqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(तब) मरियम के बेटे ईसा ने (बारगाहे ख़ुदा में) अर्ज़ की ख़ुदा वन्दा ऐ हमारे पालने वाले हम पर आसमान से एक ख्वान (नेअमत) नाज़िल फरमा कि वह दिन हम लोगों के लिए हमारे अगलों के लिए और हमारे पिछलों के लिए ईद का करार पाए (और हमारे हक़ में) तेरी तरफ से एक बड़ी निशानी हो और तू हमें रोज़ी दे और तू सब रोज़ी देने वालो से बेहतर है
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَائِدَةً – খাদ্যে পরিপূর্ণ টেবিল বা খাবার পরিবেশনের পাত্র।
عِيدًا – আনন্দের দিন, যা প্রতি বছর পালন করা হয় বা বিশেষ সম্মানিত দিন।
لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا – আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
آيَةً – নিদর্শন, প্রমাণ বা অলৌকিক ঘটনা।
তাফসীর:
হাওয়ারীগণ (শিষ্যগণ) যখন নবী ঈসা (আঃ)-এর কাছে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করল যে, তাদের প্রতি আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা (মাইদা) নাযিল হোক, যাতে তারা তা খেয়ে তৃপ্ত হয় এবং তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়, তখন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) তাদের এই প্রার্থনার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে হাত তুলে দু‘আ করলেন। তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আপনি আমাদের প্রতি আসমান থেকে এমন একটি খাঞ্চা নাযিল করুন, যা আমাদের জন্য এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ঈদ (আনন্দ ও সম্মানের দিন) হয়ে থাকবে। অর্থাৎ যে দিন এটি নাযিল হবে, আমরা সেটিকে বিশেষ সম্মান ও আনন্দের দিন হিসেবে পালন করব এবং আমাদের পরে যারা আসবে তারাও এই দিনটিকে সম্মান করবে। আর এটি আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন ও প্রমাণ হবে যে, আপনি একক সত্য ইলাহ এবং আমি আপনার সত্য নবী। সুতরাং আপনি আমাদের রিযিক দান করুন, কারণ আপনিই তো সর্বোত্তম রিযিকদাতা।”
ঈসা (আঃ)-এর এই দু‘আ ছিল অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিজের যোগ্যতা বা মর্যাদার কথা উল্লেখ না করে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর রহমত ও দয়ার উপর নির্ভর করলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এই দু‘আ কবুল করেছিলেন এবং তাদের প্রতি আসমান থেকে খাঞ্চা নাযিল হয়েছিল, যা ছিল তাদের জন্য একটি মহান অলৌকিক নিদর্শন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় বিনয় ও আত্মসমর্পণের সাথে চাওয়া উচিত। ঈসা (আঃ) “রব্বানা” বলে সম্বোধন করেছেন, যা গভীর ভালোবাসা ও বিনয়ের প্রকাশ।
মুমিনদের উচিত আল্লাহর নিকট এমন বিষয় চাওয়া, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য কল্যাণকর। ঈসা (আঃ) শুধু খাবার চাননি, বরং চেয়েছেন এমন নিদর্শন যা ঈমানকে মজবুত করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও শিক্ষা হয়ে থাকবে।
আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা এবং সেগুলোকে স্মরণীয় দিন হিসেবে পালন করা জায়েয, তবে এমনভাবে নয় যা শিরকের দিকে নিয়ে যায়। ইসলামে ঈদ শুধু আল্লাহর নির্ধারিত দুটি ঈদ (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা), কিন্তু এখানে ঈসা (আঃ)-এর উম্মতের জন্য বিশেষ দিনের কথা বলা হয়েছে।
রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা অগণিত রিযিক দান করেন। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই চাওয়া।
নবীগণ আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় “আনতা খাইরুর রাযিকীন” (আপনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা) বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর প্রশংসার সাথে দু‘আ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন? তিনি বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর।
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।
আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।