আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
खुदा ने फरमाया मै ख्वान तो तुम पर ज़रुर नाज़िल करुगाँ (मगर याद रहे कि) फिर तुममें से जो भी शख़्श उसके बाद काफ़िर हुआ तो मै उसको यक़ीन ऐसे सख्त अज़ाब की सज़ा दूँगा कि सारी ख़ुदायी में किसी एक पर भी वैसा (सख्त) अज़ाब न करुगाँ
আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُنَزِّلُهَا – আমি তা অবতরণকারী (এখানে ‘তা’ দ্বারা ময়দা/খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা বা টেবিলকে বোঝানো হয়েছে)।
يَكْفُرْ – কুফরি করে, অস্বীকার করে।
أُعَذِّبُهُ – আমি তাকে শাস্তি দেব।
الْعَالَمِينَ – সৃষ্টিজগতের সকল মানুষ (এখানে সে সময়ের সকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে)।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা ঈসা (আঃ)-এর দোয়ার উত্তরে বললেন: “আমি অবশ্যই তা তোমাদের উপর নাজিল করব।” অর্থাৎ, তারা যে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা (ময়দা) নাজিলের আবেদন করেছিল, আল্লাহ তা কবুল করে নিলেন এবং তা নাজিলের ওয়াদা করলেন। এরপর তিনি সতর্ক করে দিলেন: “তোমাদের মধ্যে যে কেউ এরপর (এই ময়দা নাজিলের পর) কুফরি করবে—অর্থাৎ আল্লাহর একত্ব ও ঈসা (আঃ)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করবে—আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যা সৃষ্টিজগতের আর কাউকে দেব না।” কারণ, এই অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরও যে কুফরি করবে, তার কুফরি হবে নিছক জিদ ও হঠকারিতার কারণে, অজ্ঞতা বা অজানার কারণে নয়। তাই তার শাস্তিও হবে অন্য সবার চেয়ে কঠিন। বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর এই ওয়াদা পূর্ণ হয়েছিল এবং ময়দা নাজিল হয়েছিল। তবে এরপর যারা কুফরি করেছিল, তাদেরকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল যা পৃথিবীতে আর কাউকে দেওয়া হয়নি।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন। এটি মুমিনদের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা ও আস্থা বৃদ্ধি করে।
স্পষ্ট প্রমাণ ও অলৌকিক নিদর্শন দেখার পর কুফরি করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কারণ, তখন তা অজ্ঞতা থেকে নয়, বরং জেনে-বুঝে অস্বীকারের শামিল হয়।
আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে, এবং তিনি যাকে ইচ্ছা কঠিন শাস্তি দিতে পারেন। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় করা।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ লাভের পর তা অস্বীকার করা অত্যন্ত মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং কুফরি ও অস্বীকৃতি থেকে দূরে থাকা।
ঈসা (আঃ)-এর উম্মতের এই ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা যে, আল্লাহর কাছে চাওয়ার সময় ভালো ও কল্যাণকর বিষয় চাওয়া উচিত এবং তাঁর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকা উচিত।
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।
আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।