بِالْبُخْلِ – কৃপণতার প্রতি, কার্পণ্যের নির্দেশ দেওয়া।
يَتَوَلَّ – মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিমুখ হয়।
الْغَنِيُّ – সম্পদশালী, কারো মুখাপেক্ষী নন।
الْحَمِيدُ – সকল প্রশংসার অধিকারী, প্রশংসিত।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত লোকদের নিন্দা করেছেন যারা নিজেরা কৃপণতা করে এবং অন্যদেরকেও কৃপণতা করার নির্দেশ দেয়। তারা নিজেরা আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ ব্যয় করে না, আবার অন্যদেরকেও দান-সদকা থেকে বিরত রাখে এবং কৃপণতাকে সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গত বলে প্রচার করে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ, কারণ একজন কৃপণ নিজের ক্ষতি করে, আর যে অন্যদের কৃপণতার আদেশ দেয় সে অন্যদেরও ক্ষতির পথে পরিচালিত করে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর আদেশ-নিষেধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়, সে আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তার বিমুখতা কেবল তার নিজেরই ক্ষতি করবে। কারণ আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ — তিনি তাঁর বান্দাদের আনুগত্যের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তো সেই সত্তা যিনি সকল প্রশংসার অধিকারী, তাঁর প্রতিটি কাজ প্রশংসনীয় এবং তিনি সব সময় প্রশংসিত। বান্দার আনুগত্য বা অবাধ্যতা তাঁর কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না; বরং বান্দাই তার কর্মের ফল ভোগ করবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
কৃপণতা একটি মারাত্মক গুনাহ, যা ব্যক্তিকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে রাখে। মুমিনের উচিত দানশীলতা ও উদারতা অবলম্বন করা।
শুধু নিজে ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়, অন্যদেরকেও ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। তাই আমাদের ইবাদত ও আনুগত্য আসলে আমাদের নিজেদেরই উপকারে আসে।
যে ব্যক্তি আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ হয়, সে নিজেরই ক্ষতি করে — আল্লাহর কোনো ক্ষতি হয় না। এটি আমাদের সতর্ক করে যে, আমাদের প্রতিটি কাজের ফল আমরা নিজেরাই পাব।
আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তিনি সব অবস্থায় প্রশংসিত — সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দান-সদকা ও পরোপকার ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না,
আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।
আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।