আল-আনআম · 8/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ۖ وَلَوْ أَنزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنظَرُونَ ۝٨
Wa qaaloo law laaa unzila alaihi malakunw wa law anzalna malakal laqudiyal amru summa laa yunzaroon
📖 বাংলা অর্থ
তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَوْلَا — কেন নয়? / কেন অবতীর্ণ হলো না?
  • أُنزِلَ — অবতীর্ণ করা হলো।
  • مَلَكٌ — ফেরেশতা।
  • لَقُضِيَ الْأَمْرُ — বিষয়টির ফয়সালা হয়ে যেত (অর্থাৎ শাস্তি নেমে আসত)।
  • لَا يُنظَرُونَ — তাদেরকে অবকাশ/সুযোগ দেওয়া হতো না।

তাফসির:

মক্কার কাফিররা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে বলত: “এই ব্যক্তির ওপর ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ হলো না? যদি সে সত্যিই নবী হতো, তাহলে তার সাথে একজন ফেরেশতা আসত, যে আমাদের সাথে কথা বলত এবং তার সত্যতা প্রমাণ করত।” তারা মনে করত, ফেরেশতা দেখলেই তারা ঈমান আনবে।

আল্লাহ তাআলা তাদের এই অযৌক্তিক দাবির জবাবে বলেন: “যদি আমি তাদের দাবি মেনে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম, তাহলে বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত — অর্থাৎ যেহেতু তারা ঈমান আনত না (তাদের অন্তর জেনে-বুঝে সত্য প্রত্যাখ্যানে অটল ছিল), তাই তাদের ওপর শাস্তি নেমে আসত, এবং তাদেরকে আর এক মুহূর্তের জন্যও অবকাশ দেওয়া হতো না।”

অর্থাৎ, ফেরেশতা অবতীর্ণ করা তাদের জন্য রহমত নয়, বরং শাস্তির কারণ হতো। কারণ আল্লাহর সুন্নাত (নিয়ম) হলো — যখন কাফিররা জেদ ধরে নবীজির কাছ থেকে এমন কিছু দাবি করে যা দেখার পরও তারা ঈমান আনে না, তখন তাদের ওপর দুনিয়াতেই শাস্তি নেমে আসে। যেমনটি পূর্ববর্তী উম্মতদের বেলায় ঘটেছে। তারা ফেরেশতা দেখার দাবি করেছিল, কিন্তু ফেরেশতা দেখার পরও ঈমান আনে নি, ফলে তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. নবীজির সত্যতা প্রমাণের জন্য মুজিজা (অলৌকিক ঘটনা) দেখানো আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল — মানুষের দাবির ওপর নয়। আল্লাহ যতটুকু প্রয়োজন মনে করেন ততটুকুই দেন।
  2. কাফিরদের দাবি পূরণ করা সবসময় তাদের জন্য কল্যাণকর নয়; বরং অনেক সময় তা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  3. আল্লাহর শাস্তি এলে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না এবং তাতে কোনো অবকাশ দেওয়া হয় না। তাই আল্লাহর রহমত ও অবকাশকে মূল্যায়ন করা উচিত।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি — সত্য প্রমাণের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রমাণ এসে গেছে; মানুষের উচিত তা গ্রহণ করা, না-মানার জন্য অজুহাত খোঁজা নয়।
  5. ইসলামের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে যখন আমরা বুঝি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়ালু — তিনি এমন কিছু করেন না যা আমাদের ধ্বংস ডেকে আনে; বরং তিনি আমাদেরকে তাওবার সুযোগ দিয়ে যান।


📜 আয়াত 6-10 — সূরা আল-আনআম

6أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍ مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّن لَّكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِم مِّدْرَارًا وَجَعَلْنَا الْأَنْهَارَ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُم بِذُنُوبِهِمْ وَأَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ
তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।
7وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ لَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
যদি আমি কাগজে লিখিত কোন বিষয় তাদের প্রতি নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা সহস্তে স্পর্শ করত, তবুও অবিশ্বাসীরা একথাই বলত যে, এটা প্রকাশ্য জাদু বৈ কিছু নয়।
8وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ۖ وَلَوْ أَنزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنظَرُونَ
তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা।
9وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُونَ
যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।
10وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
8আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 8

সূরা আল-আনআম আয়াত 8 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ…

সূরা আয়াত 8/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 6–10. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না