আল-আনআম · 80/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ ۚ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ ۚ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَن يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا ۗ وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ۗ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ۝٨٠
Wa haaajjahoo qawmuh; qaala a-tuh aaajjooonnnee fillaahi wa qad hadaan; wa laaa akhaafu mmaa tushrikoona bihee illaaa ai yashaaa`a Rabbee shai`anw wasi`a Rabbee kulla shai`in `ilman afalaa tatazakkaroon
📖 বাংলা অর্থ
তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • حَاجَّهُ = তার সাথে বিতর্ক/তর্ক করল।
  • أَتُحَاجُّونِّي = তোমরা কি আমার সাথে তর্ক করছ?
  • هَدَانِ = আমাকে পথ দেখিয়েছেন (সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন)।
  • وَسِعَ = পরিবেষ্টন করেছে, ব্যাপ্ত হয়েছে।
  • تَتَذَكَّرُونَ = তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না / চিন্তা করবে না?

তাফসীর:

ইবরাহিম (আঃ)-এর সম্প্রদায় যখন দেখল যে, তিনি তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং এক আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন তারা তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তারা তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করল যে, তাদের দেবদেবীর ক্রোধ তাঁর উপর নেমে আসবে। জবাবে ইবরাহিম (আঃ) অত্যন্ত দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞার সাথে বললেন: “তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমার সাথে বিতর্ক করছ? অথচ তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আমার হৃদয়কে তাঁর একত্বের জ্ঞানে আলোকিত করেছেন। আমি কি এমন এক সত্যকে অস্বীকার করব যা আমি নিশ্চিতভাবে জেনে গেছি?”

তিনি আরও বললেন: “তোমরা যে মূর্তিগুলোর পূজা কর এবং যাদের ভয়ে আমাকে ভয় দেখাতে চাও, আমি তাদের কোনো ভয় করি না। কারণ তারা নিজেদের জন্যেও কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না, আমার জন্যে তো দূরের কথা। তবে হ্যাঁ, আমার রব যদি কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তা অবশ্যই ঘটবে। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটতে পারে না। আমার রবের জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে—আকাশ, পৃথিবী, প্রকাশ্য-গোপন সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতায়। তিনি সব জানেন, তাই তিনি জানেন যে, আমি সত্যের উপর আছি এবং তোমরা বাতিলের উপর।”

অতঃপর তিনি তাদের জ্ঞানবুদ্ধিকে সম্বোধন করে বললেন: “তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করবে না? যে সৃষ্টিকর্তা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু সম্পর্কে অবগত, তিনি কি উপাসনার যোগ্য নন? আর তোমরা যে পাথরের মূর্তিগুলোকে উপাস্য বানিয়েছ, তারা কি কোনো জ্ঞান রাখে?”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্যের উপর দৃঢ় থাকা: ইবরাহিম (আঃ)-এর জীবন থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের পথে থাকলে সমগ্র বিশ্ববাসী বিরোধিতা করলেও আমাদের বিচলিত হওয়া উচিত নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও হিদায়াতই আমাদের জন্য যথেষ্ট শক্তি।
  2. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা: প্রকৃত মুমিন কেবল আল্লাহকে ভয় করে। অন্য কিছুর ভয় তাকে দুর্বল করতে পারে না। কারণ, উপকার-অপকার সবই আল্লাহর হাতে।
  3. জ্ঞানের ব্যাপকতা: আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। এই বিশ্বাস মুমিনকে সৎকর্মে অটল রাখে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে, কারণ সে জানে আল্লাহ সব দেখছেন ও জানছেন।
  4. যুক্তি ও প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াত: ইবরাহিম (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্কে ধৈর্য, যুক্তি এবং নম্রতার সাথে কথা বলেছেন। আমাদের উচিত দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার সময় কঠোরতা নয়, বরং প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করা।
  5. চিন্তা-ভাবনার আহ্বান: কুরআন বারবার মানুষকে চিন্তা-ভাবনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। অন্ধবিশ্বাস ও পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসরণ ত্যাগ করে নিজের বিবেক দিয়ে চিন্তা করলে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 78-82 — আল-আনআম

78فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَٰذَا رَبِّي هَٰذَا أَكْبَرُ ۖ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ
অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত।
79إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।
80وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ ۚ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ ۚ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَن يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا ۗ وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ۗ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ
তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?
81وَكَيْفَ أَخَافُ مَا أَشْرَكْتُمْ وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُم بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا ۚ فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক।
82الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
80আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 80

সূরা আল-আনআম আয়াত 80 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি…

সূরা আয়াত 80/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 78–82. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না