Wa iz qaala `Eesab-nu-Mayama yaa Banee Israaa`eela innee Rasoolul laahi ilaikum musaddiqal limaa baina yadayya minat Tawraati wa mubashshiram bi Rasooliny yaatee mim ba`dis muhooo Ahmad; falammaa jaaa`ahum bil baiyinaati qaaloo haazaa sihrum mubeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (याद करो) जब मरियम के बेटे ईसा ने कहा ऐ बनी इसराइल मैं तुम्हारे पास ख़ुदा का भेजा हुआ (आया) हूँ (और जो किताब तौरेत मेरे सामने मौजूद है उसकी तसदीक़ करता हूँ और एक पैग़म्बर जिनका नाम अहमद होगा (और) मेरे बाद आएँगे उनकी ख़ुशख़बरी सुनाता हूँ जो जब वह (पैग़म्बर अहमद) उनके पास वाज़ेए व रौशन मौजिज़े लेकर आया तो कहने लगे ये तो खुला हुआ जादू है
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُصَدِّقًا — সত্যায়নকারী/প্রত্যয়নকারী।
بَيْنَ يَدَيَّ — আমার পূর্বে যা এসেছে (অর্থাৎ তাওরাত)।
مُبَشِّرًا — সুসংবাদদাতা।
أَحْمَدُ — নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর একটি নাম।
الْبَيِّنَاتِ — স্পষ্ট প্রমাণাদি/মু'জিযা।
سِحْرٌ مُبِينٌ — সুস্পষ্ট জাদু।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আপনি আপনার সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিন সেই সময়ের কথা, যখন মারইয়ামের পুত্র ঈসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করে বলেছিলেন: "হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমি আমার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতকে সত্যায়ন করছি এবং সেই সাথে আমি তোমাদেরকে এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি যিনি আমার পরে আগমন করবেন—তাঁর নাম 'আহমাদ' (অর্থাৎ মুহাম্মাদ ﷺ)। তিনি আমার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হবেন।" ঈসা (আঃ) তাঁর উম্মতকে সেই আসন্ন রাসূলের উপর ঈমান আনার এবং তাঁকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু যখন সেই প্রতিশ্রুত রাসূল (মুহাম্মাদ ﷺ) তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদি ও মু'জিযা নিয়ে আগমন করলেন—যা সত্যকে প্রমাণ করছিল—তখন তারা ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে বলল: "এটা তো সুস্পষ্ট জাদু!" তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করল এবং একে জাদু বলে আখ্যা দিল, যদিও তারা এর সত্যতা সম্পর্কে অন্তরে নিশ্চিত ছিল।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
নবী ঈসা (আঃ) নিজেই মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন—এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের প্রতি আহ্বান পূর্ববর্তী নবীদের ধারাবাহিকতা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ। তাই ইসলাম গ্রহণ করা কোনো নতুন ধর্ম গ্রহণ নয়, বরং সেই একই সত্যের পরিপূর্ণতা।
সত্যের দাওয়াত পৌঁছানোর পর মানুষের দায়িত্ব হলো তা যাচাই করে মেনে নেওয়া। কিন্তু যারা অহংকার ও পক্ষপাতের কারণে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে—আল্লাহর কোনো ক্ষতি হয় না।
সত্যের বিরোধীরা সব যুগে একই কৌশল ব্যবহার করে—সত্যকে জাদু, মিথ্যা বা কল্পনা বলে অপবাদ দেয়। কিন্তু সত্য চিরকাল বিজয়ী থাকে, কারণ আল্লাহ নিজেই তার সাহায্যকারী।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি ঈমান আনা এবং তাদের দেওয়া সুসংবাদকে গুরুত্ব দেওয়া ইসলামের অপরিহার্য অংশ। আর মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর ঈমান আনা সকল নবীর শিক্ষার পরিপূর্ণতা।
যে সম্প্রদায় স্পষ্ট প্রমাণ দেখেও সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই আমাদের উচিত সত্যকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনয়ী ও আন্তরিক হওয়া, যাতে আমরা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত না হই।
স্মরণ কর, যখন মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও, অথচ তোমরা জান যে, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল। অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।