Wa naadaa Ashaabul jannati ashaaban Naari an qad wajadnaa maa wa`adannaa Rabbunaa haqqan fahal wajattum maa wa`ada Rabbukum haqqan qaaloo na`am; fa azzana mu`azzinum bainahum al la`natul laahi `alaz zaalimeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जन्नती लोग जहन्नुमी वालों से पुकार कर कहेगें हमने तो बेशक जो हमारे परवरदिगार ने हमसे वायदा किया था ठीक ठीक पा लिया तो क्या तुमने भी जो तुमसे तम्हारे परवरदिगार ने वायदा किया था ठीक पाया (या नहीं) अहले जहन्नुम कहेगें हाँ (पाया) एक मुनादी उनके दरमियान निदा करेगा कि ज़ालिमों पर ख़ुदा की लानत है
জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
وَنَادَىٰ – ডাক দিল, সম্বোধন করল।
أَصْحَابُ الْجَنَّةِ – জান্নাতের অধিবাসীরা।
أَصْحَابَ النَّارِ – জাহান্নামের অধিবাসীরা।
وَجَدْنَا – আমরা পেয়েছি, আমরা সত্যায়িত করেছি।
حَقًّا – সত্য হিসেবে, বাস্তবে।
فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ – অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করল।
لَعْنَةُ اللهِ – আল্লাহর অভিশাপ, রহমত থেকে দূরীভূত হওয়া।
الظَّالِمِينَ – যালিমরা, যারা সীমালঙ্ঘনকারী ও কাফির।
তفسير:
জান্নাতবাসীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার চিরস্থায়ী নেয়ামতসমূহ প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা জাহান্নামবাসীদেরকে ডেকে বলবে: “আমরা তো আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি—তিনি আমাদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে পূর্ণ হয়েছে। আর তোমরা কি তোমাদের রবের প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছ? তিনি তোমাদেরকে যে শাস্তি ও জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছিলেন, তা কি তোমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছ?” জবাবে জাহান্নামবাসীরা লজ্জা ও আফসোসের সাথে বলবে: “হ্যাঁ, আমরাও আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি—শাস্তি আমাদের উপর বাস্তবে নেমে এসেছে।” তখন উভয় দলের মাঝখানে একজন ঘোষণাকারী উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করবে: “আল্লাহর অভিশাপ—অর্থাৎ তাঁর রহমত থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চনা—সেই যালিমদের উপর, যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে, আল্লাহর আয়াত ও রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছে, এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সীমালঙ্ঘন করেছে।”
ফায়িদা (শিক্ষা ও উপদেশ):
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী—উভয়ই শতভাগ সত্য। জান্নাতের সুসংবাদ এবং জাহান্নামের ভীতি—কোনোটিই মিথ্যা নয়; তাই আমাদের উচিত দুনিয়াতেই এই সত্যকে বিশ্বাস করে আমল করা।
জান্নাতবাসীদের জাহান্নামবাসীদের সাথে এই কথোপকথন প্রমাণ করে যে, আখিরাতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং প্রত্যেকে নিজের কর্মফল প্রত্যক্ষ করবে।
যালিমদের উপর আল্লাহর অভিশাপ—এটি একটি সতর্কবার্তা যে, অন্যায়, কুফর ও সীমালঙ্ঘন কখনো অশাস্তি থাকে না। তাই আমাদের উচিত যেকোনো ধরনের জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা।
এই আয়াত আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে এবং জান্নাত লাভের জন্য সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে—যাতে আমরা সেই চিরস্থায়ী সাফল্যের অধিকারী হতে পারি এবং অভিশপ্তদের দলভুক্ত না হই।
তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।
জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।
উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।