আল-জ্বিন · 10/28
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-জ্বিন
وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا ۝١٠
Wa annaa laa nadreee asharrun ureeda biman fil ardi am araada bihim rabbuhum rashadaa
📖 বাংলা অর্থ
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • أَشَرٌّ أُرِيدَ — অর্থাৎ, কোনো অমঙ্গল বা ক্ষতি ইচ্ছা করা হয়েছে।
  • بِمَن فِي الْأَرْضِ — অর্থাৎ, পৃথিবীর অধিবাসীদের (মানুষ ও জিন) জন্য।
  • رَشَدًا — অর্থাৎ, কল্যাণ, হিদায়াত ও সঠিক পথ।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

জিন সম্প্রদায়ের ঈমানদাররা যখন কুরআন শুনল এবং তা আল্লাহর বাণী বলে নিশ্চিত হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলতে লাগল— আমরা তো জানি না যে, এই কঠোর প্রহরা ও আকাশ থেকে ফেরেশতাদের আগমন, যা আমরা লক্ষ্য করছি, তা কি পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য কোনো অমঙ্গল বা শাস্তি নেমে আসার ইঙ্গিত? নাকি তাদের প্রতিপালক তাদের জন্য কল্যাণ, হিদায়াত ও সঠিক পথের দরজা খুলে দিতে চান?

অর্থাৎ, জিনেরা আকাশের খবর শোনার চেষ্টা করত, কিন্তু হঠাৎ তারা দেখল যে, আকাশ কঠোর প্রহরায় আবদ্ধ এবং উল্কাপিণ্ড দ্বারা বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারা তখন চিন্তা করল— এত বড় পরিবর্তন কেন? হয়তো আল্লাহ পৃথিবীর বাসিন্দাদের ওপর শাস্তি পাঠাতে চান, অথবা তিনি তাদের জন্য কল্যাণ ও হিদায়াতের কিছু নির্ধারণ করেছেন। পরে তারা বুঝতে পারল যে, এটি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর কুরআন নাজিলের কারণে, যা সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত ও হিদায়াতের বার্তা নিয়ে এসেছে।

এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যেকোনো পরিবর্তন বা ঘটনা—তা আপাতদৃষ্টিতে ভয়ংকর মনে হোক বা কল্যাণকর—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে গভীর হিকমত। মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাঁর রহমত ও কল্যাণের প্রত্যাশা করা। এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, কুরআন নাজিল হওয়া ছিল মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ, যা জিন-ইনসান উভয়ের জন্য হিদায়াতের আলো বয়ে এনেছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই হিদায়াতের ওপর চলার তাওফিক দান করুন।



📜 আয়াত 8-12 — সূরা আল-জ্বিন

8وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا
আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
9وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ ۖ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا
আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।
10وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।
11وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا
আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত।
12وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعْجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
10আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 10

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের…

সূরা আয়াত 10/28 — সূরা আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জ্বিন শুনুন, সূরা আল-জ্বিন অনুবাদ, সূরা আল-জ্বিন mp3, সূরা আল-জ্বিন pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না